বিজ্ঞান ডেস্ক
০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:০২ এএম
তপ্ত গরমে এসির শীতল পরশ পেতে যখন আমরা উন্মুখ, ঠিক তখনই যদি এসি ঠান্ডা না হয় তবে বিরক্তির শেষ থাকে না। অনেক সময় এসি সার্ভিসিং করতে এলে টেকনিশিয়ানরা শুরুতেই বলে বসেন ‘গ্যাস শেষ’ হয়ে গেছে। কিন্তু অন্ধভাবে মেকানিকের কথা বিশ্বাস করার আগে আপনি নিজেই চারটি সহজ উপায়ে নিশ্চিত হতে পারেন আপনার এসিতে আদেও গ্যাস আছে কি না। এতে আপনি যেমন প্রতারণা থেকে বাঁচবেন, তেমনি সাশ্রয় হবে হাজার হাজার টাকা।
গ্যাস লিক করছে কি না বুঝবেন যেভাবে
১. শীতল করার ক্ষমতা যাচাই: সার্ভিসিং শুরু করার আগে এসি অন্তত ১৫-২০ মিনিটের জন্য চালিয়ে দেখুন। যদি দেখেন ঘর মোটামুটি ঠান্ডা হচ্ছে, তবে বুঝবেন গ্যাসে বড় কোনো সমস্যা নেই। সার্ভিসিংয়ের পর যদি ঠান্ডা কমে যায়, তবে সেটি টেকনিশিয়ানের কাজের ত্রুটি হতে পারে।

২. কয়েলে বরফ জমা: এসির ভেতরের ইউনিটের কয়েল পরীক্ষা করে দেখুন সেখানে বরফ জমছে কি না। সাধারণত গ্যাসে লিক থাকলে বা গ্যাস কমে গেলে কয়েল অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে বাতাসের আর্দ্রতাকে বরফে পরিণত করে। বরফ দেখা দিলে বুঝবেন গ্যাসের রিফিল প্রয়োজন হতে পারে।
আরও পড়ুন: এসি কেনার আগে করণীয়: ২০২৬-এর নতুন নিয়মে ৩ স্টার না ৫ স্টার এসি কিনবেন?
৩. পাইপে তেলের দাগ: এসির বাইরের ইউনিটের (আউটডোর) পাইপগুলো ভালো করে লক্ষ্য করুন। যদি পাইপের গায়ে আঠালো তেলের মতো কোনো আবরণ বা দাগ দেখতে পান, তবে নিশ্চিত থাকুন সেখান দিয়েই গ্যাস লিক হচ্ছে। কারণ গ্যাসের সাথে পাইপে বিশেষ ধরনের তেল থাকে; গ্যাস উড়ে গেলেও তেল সেখানে লেগে থাকে।

৪. সবশেষে ‘বাবল টেস্ট’: মেকানিক যদি দাবি করেন যে গ্যাস লিক হয়েছে, তবে তাকে লিক হওয়া জায়গাটি দেখাতে বলুন। সাবান বা ডিটারজেন্টের ঘন ফেনা পাইপের জয়েন্টগুলোতে লাগিয়ে ‘বাবল টেস্ট’ করতে বলুন। যদি সেখান থেকে বুদবুদ বের হয়, তবেই বুঝবেন লিক আছে। কোনো বুদবুদ না উঠলে বুঝবেন আপনাকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
মনে রাখা জরুরি
লিকেজ মেরামত না করে শুধু গ্যাস রিফিল করা মানেই অর্থের অপচয়। তাই মেকানিকের কথায় সায় দেওয়ার আগে এই ছোট পরীক্ষাগুলো নিজে করে নিন এবং নিশ্চিত হয়ে তবেই গ্যাস রিফিলের সিদ্ধান্ত নিন।
এজেড