Dhaka Mail Logo

বিজ্ঞান

অস্ট্রেলিয়ায় ১৯ শতকের বিরল জাপানি মুদ্রা উদ্ধার

বিজ্ঞান ডেস্ক

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০১ এএম

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের একটি পরিত্যক্ত ক্রীড়া মাঠে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় এক শৌখিন প্রত্নতাত্ত্বিকের হাতে উঠে এসেছে ১৯ শতকের একটি বিরল জাপানি মুদ্রা।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই মুদ্রাটি ১৮৫১ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়ায় চলা ঐতিহাসিক ‘গোল্ড রাশ’ বা স্বর্ণ সন্ধানের সময়ের, যা এই মহাদেশের অভিবাসন ও বাণিজ্যিক ইতিহাসের এক অনন্য প্রমাণ।

অ্যাঙ্গাস জেমস নামের এক মেটাল ডিটেক্টর শৌখিন ব্যক্তি সম্প্রতি একটি পরিত্যক্ত মাঠ থেকে ১০০ ‘মন’ (Mon) মূল্যের একটি 'টেনপো সুহো' (Tenpō Tsūhō) মুদ্রা উদ্ধার করেন। গত ২৫ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আবিষ্কারের ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘আপনি কখনোই জানবেন না পরবর্তীতে আপনার ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে।’ মুদ্রাটি এতটাই সুসংরক্ষিত ছিল যে এর গায়ের লিপিগুলোও স্পষ্টভাবে পড়া যাচ্ছিল।

australia

ঐতিহাসিক সংযোগ ও গোল্ড রাশ

১৮৫১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় স্বর্ণের খনি আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে মানুষের ঢল নামে। মাত্র ২০ বছরের ব্যবধানে (১৮৭১ সাল নাগাদ) মহাদেশটির জনসংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৭ লাখের বেশি হয়ে যায়। যদিও অধিকাংশ মানুষ ইউরোপ থেকে এসেছিলেন, তবে স্বর্ণের নেশায় জাপানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও পাড়ি জমিয়েছিলেন এই মহাদেশে। ধারণা করা হচ্ছে, তখনকার কোনো জাপানি নাগরিকের হাত ধরেই এই মুদ্রাটি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল।

আরও পড়ুন: ৬৭ হাজার বছর পুরনো ‘অদৃশ্য’ গুহাচিত্রের সন্ধান

মুদ্রার পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য

জাপানের তোকুগাওয়া সরকার ১৮৩৫ সালে প্রথম এই 'টেনপো সুহো' মুদ্রাটি বাজারে ছাড়ে। মেইজি পুনর্গঠনের মাধ্যমে ১৮৭১ সালে 'ইয়েন' (Yen) প্রবর্তিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছর এটি জাপানে প্রচলিত ছিল। মুদ্রার গায়ের লেখাগুলো চীনা অক্ষরের মতো মনে হলেও এটি মূলত সে সময়ের জাপানি মুদ্রার নকশার প্রভাব। এতে ‘টেনপো’ বলতে তৎকালীন শাসন আমল এবং ‘সুহো’ বলতে ‘প্রচলিত সম্পদ’ বা মুদ্রাকে বোঝানো হয়েছে।

Japanese-Coin

বর্তমান গুরুত্ব

মুদ্রা সংগ্রাহকদের কাছে এই টেনপো সুহো মুদ্রা বর্তমানে অত্যন্ত মূল্যবান। জাপানে এটি এখনো সৌভাগ্যের প্রতীক বা 'গুড লাক চার্ম' হিসেবেও বিক্রি হয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই মুদ্রার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ১৯ শতকের স্বর্ণ সন্ধানের আন্দোলন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যম ছিল।

এজেড