images

ইসলাম

হজের প্রস্তুতিতে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

ধর্ম ডেস্ক

০৭ মে ২০২৩, ০৫:০৭ পিএম

হজ ইসলামি শরিয়তের অন্যতম স্তম্ভ। আর্থিক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। মক্কায় যাওয়া-আসা পর্যন্ত এবং ততদিন পরিবারের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় খরচের সামর্থ্য কারো থাকলে তার ওপর হজ ফরজ হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘এই ঘরের হজ করা মানুষের ওপর আল্লাহর প্রাপ্য; যে লোকের সামর্থ্য রয়েছে এ পর্যন্ত পৌঁছার।’ (সুরা আল ইমরান: ৯৭) 

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটের পিঠে (সওয়ার হয়ে), তারা আসবে দূর-দূরান্তর পথ অতিক্রম করে।’ (সুরা হজ: ২৭)

হজের নির্দিষ্ট সময় হলো- আশহুরে হুরুম তথা শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিন; বিশেষত জিলহজের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পাঁচ দিন। এই পাঁচ দিনই মূলত হজ পালন করা হয়। হজ শুরুর প্রায় এক দেড় মাস আগে থেকে সৌদি আরবে উপস্থিত হন হজযাত্রীরা। হজ সফরের আগে প্রস্তুতি হিসেবে আলেমদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এখানে হজের প্রস্তুতিমূলক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো-

হজ প্যাকেজসহ যাবতীয় খরচ সম্পর্কে ধারণা রাখা
হজের সফরে প্লেন ভাড়া, বাসাভাড়া, হজের সময় মিনায় তাঁবুতে থাকার খরচ, প্যাকেজের সুবিধাদি ইত্যাদি আগে থেকে জেনে নিতে হবে। এছাড়াও প্যাকেজের অধীনে সৌদি আরবে অবস্থানের মেয়াদ কত দিন, কোথায় কত দিন অবস্থান এবং তা কীভাবে, বিস্তারিত জানতে হবে। প্যাকেজের অধীনে মুয়াল্লিম কী কী সেবা দেবেন, তাও জেনে নেওয়া উচিত। কারণ এসব নিয়ে হজের গুরুত্বপূর্ণ সময়েও অনেকসময় বিতর্ক হয়। এমনকি সৌদি আরবে পৌঁছে তিন বেলা খাবার দেওয়া হবে কি না বা বিকল্প ব্যবস্থা কী, তাও জানা থাকা ভালো। আপনার সঙ্গী অসুস্থ বা দুর্বল হলে বিকল্প ব্যবস্থাও জেনে নিতে হবে।

মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা
ইসলামের যেসব ইবাদতে শারীরিক সক্ষমতা জরুরি হজ তার অন্যতম। হজ ফরজ হওয়ার পাঁচটি শর্তের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতাও একটি। হজের সফরে প্রচুর হাঁটাচলা করতে হয়। যাতায়াতের জন্য যখন-তখন যানবাহন পাওয়া যায় না। তাই কাবা শরীফ তাওয়াফ, সাঈ, মিনা, জামারায় পাথর মারা, মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে হজের তাওয়াফ, সাঈ করতে প্রচুর হাঁটাচলা করতে হয়। এসবের জন্য মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা জরুরি। এটি হজের প্রস্তুতির জন্য অন্যতম বিবেচিত বিষয়। 

নিয়তের বিশুদ্ধতা 
হজের জন্য নিয়তের শুদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যেকোনো আমল কবুল হওয়ার প্রথম শর্ত হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা। হাদিসে এসেছে-‘নিশ্চয় নিয়তের ওপর আমল নির্ভরশীল’ (বুখারি: ০১)

তাই দুনিয়ার যশখ্যাতির মোহে না পড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজের নিয়ত করা জরুরি। হাদিসে রিয়াকে ছোট শিরক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজেও এমন হজ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়েছেন। এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! এমন হজের তাওফিক দাও, যা হবে রিয়া ও সুনাম কুড়ানোর মানসিকতা হতে মুক্ত।’ (ইবনে মাজা: ৮৯০)

হজের নিয়ম-কানুন জেনে নেওয়া
হজ করতে ইচ্ছুক এবং প্রথমবারের মতো হজ করতে যাচ্ছেন এমন ব্যক্তির জন্য  অবশ্যই হজের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা রাখা জরুরি। হজ সফরে কোথায় কখন কী আমল করতে হয়, কোন আমল করা ফরজ, কোন আমল ওয়াজিব, কোন আমল সুন্নত ইত্যাদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। একই সঙ্গে হজের তালিবায়াসহ গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলো মুখস্থ করে নিতে হবে। 

বর্তমানে বিভিন্ন হজ প্যাকেজের অধীনে এজেন্সির পক্ষ থেকে মুয়াল্লিম বা হজ গাইড নির্ধারণ করা থাকে। তবে অন্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজের আমল নিজেই করতে পারাটা উত্তম। 

এছাড়াও হজের সময় বিপুল সংখ্যক জনসমাগমের কারণে তাৎক্ষণিক মুয়াল্লিমকে খুঁজে না পেলে হয়ত ঝামেলায় পড়তে হবে। মূল ইবাদত পালনেও সমস্যা হতে পারে, এমনকি এর কারণে হজ অসম্পূর্ণও থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রস্তুতি হিসেবে বিজ্ঞ আলেমদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি বিষয়গুলো জেনে নেওয়া উচিত। আশপাশে কোথাও হজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কি না খোঁজ নিয়ে, সেখানে যোগাযোগ করে মাসয়ালাগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে হজ-সংক্রান্ত বই পড়েও জেনে নেওয়া যেতে পারে। 

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হজের সকল নিয়ম-কানুন জেনে নেওয়ার ও মেনে চলার তাওফিক দান করুন। যথাযথ ও সুন্দর প্রস্তুতিসহ হজের সফর শুরু করার তাওফিক দান করুন। আমিন।