images

ইসলাম

অজুর পানি গলায় গেলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

ধর্ম ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২২, ০২:৩০ পিএম

রোজা অবস্থায় অজু গোসলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন নাক-কান-গলায় পানি প্রবেশ করতে না পারে। কেননা যদি পানি পেটে ঢুকে যায়, ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তবে, কাফফারা লাগবে না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৬/২৬০; ফতোয়া খানিয়া: ১/২০৯; ফতোয়া হিন্দিয়া: ১/২০২; আলবাহরুর রায়েক: ২/২৭১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০১)

সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘রোজা অবস্থায় কুলি করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবেও যদি গলার ভেতর পানি চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং ওই রোজা কাজা করতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক: ৭৩৮০)

তবে, যদি রোজার কথা স্মরণ না থাকে এবং স্মরণ না থাকার কারণেই গড়গড়া করা হয় এবং গলায় পানি চলে যায়, এতে রোজা ভাঙবে না। সুতরাং ওই রোজার কাজা-কাফফারা কোনোটিই আদায় করতে হবে না। কারণ, ভুলে পানাহার করলেও রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। আল্লাহর রাসুল (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল; সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ, আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১/২০২)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে আছে, ‘যে রমজান মাসে ভুলে পানাহার করল, তার ওপর কোনো কাজা নেই; কোনো কাফফারাও নেই।’ (ইবনে হিব্বান: ০৮/২৮৮; হাকিম: ০১/৪৩০; সহিহুল জামি: ৬০৭০)

এমনকি ভুলবশত স্ত্রী সহবাস করলেও রোজা ভাঙে না। অবশ্য, স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে তা থেকে বিরত থাকতে হব। (রদ্দুল মুখতার, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা: ৩৬৫)

প্রসঙ্গত, রোজা রেখে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া যাবে। তবে, মাদমাদাহ তথা গড়গড়া করে কুলি করা এবং ইসতেনশাক তথা নাকের পানি জোড়ে টান দেওয়া যাবে না। (আবকে মাসায়েল আউর উনকা হল: ২৮৩) 

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, بالغ في الاستنشاق ، إلا أن تكون صائما ‘অজু-গোসলের সময় ভালো করে নাকে পানি দাও, তবে রোজা অবস্থায় নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৬৩)

সুতরাং রোজাদার মুমিন মুসলমানের উচিত, রোজাবস্থায় প্রত্যেকটি বিষযয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ সুন্নাহ মেনে রোজার হক যথাযথ আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।