images

ইসলাম

হাটহাজারী মাদরাসার ‘বাবা হুজুর’ মারা গেছেন

ধর্ম ডেস্ক

২৮ মার্চ ২০২৩, ১২:৫৫ পিএম

দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার প্রবীণ শিক্ষক ‘বাবা হুজুর’ খ্যাত মাওলানা মুমতাজুল করিম ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘ ৩৯ বছর (১৯৮৪-২০২৩) প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

সোমবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১.২০ মিনিটে রাজধানীর সায়েদাবাদের আল কারিম হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি ২ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক। আজ মঙ্গলবার বাদ আছর হাটহাজারী মাদরাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে এবং মাদরাসার কবরস্থানে দাফন করা হবে।

মাওলানা মুমতাজুল কারিম ১৯৪২ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানার ডুলিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

এলাকার বটগ্রাম হামিদিয়া মাদরাসা থেকে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। এরপর ফেনী শর্শদি মাদরাসায় কিছুদিন পড়াশোনা করে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হন। পরে জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসা থেকে সুনাম ও কৃতিত্বের সঙ্গে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন। 

দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি অর্জনশেষে উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৩ সালে তিনি পাকিস্তানে যান এবং বিখ্যাত মাদরাসা জামিয়া আশরাফিয়া লাহোর থেকে তাফসির ও আদব (আরবি সাহিত্য) বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৬৫ সালে দেশে ফিরে ময়মনসিংহের কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগ দেন। ওই বছরই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগ দেন এবং মুসলিম শরিফের দরস দেওয়া শুরু করেন। 

পরবর্তীতে ঢাকা আশরাফুল উলুম বড়কাটারা মাদরাসায় সাত বছর মুহাদ্দিস হিসেবে খেদমত করে চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগ পান। পটিয়া মাদরাসায় তিনি টানা সাত বছর সুনামের সঙ্গে হাদিসের দরস দেন। এ সময় তিনি পটিয়া থেকে প্রকাশিত ‘মাসিক আত তাওহীদ’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জামিয়া হোসাইনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা।

১৯৮৪ সালে দেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীতে নিয়োগ পান। হাটহাজারী মাদরাসায় অত্যন্ত সুনাম-সুখ্যাতির সঙ্গে হাদিসের দরস দেন। হাটহাজারী মাদরাসায় অধ্যাপনাকালে শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তার অপরিসীম দরদ ও ভালোবাসার কারণে ছাত্ররা তাকে ‘বাবা হুজুর’ বলে সম্বোধন করতেন।