ধর্ম ডেস্ক
০১ নভেম্বর ২০২২, ০১:৩৫ পিএম
হজরত আলী (রা.) একবার তাঁর প্রিয় বর্মটি হারিয়ে ফেললেন। কিছুদিন পর এক খ্রিস্টানের হাতে সেটি দেখেই চিনে ফেললেন। লোকটি ওই বর্ম বাজারে বিক্রি করতে আসছিলেন। আলী (রা.) তৎক্ষণাৎ বললেন, ‘এ তো আমার বর্ম।’
ইহুদি বললেন, ‘আমিরুল মুমিনিন, এটি বরং আমারই বর্ম এবং আমার দখলেই রয়েছে।’ আলী (রা.) বললেন, ‘চলো তাহলে কাজীর কাছে (বিচারপতির আদালতে)। সেখানে মীমাংসা হবে।’
সেসময় ওই আদালতের বিচারক ছিলেন কাজী শুরাইহ। তিনি যখন আমিরুল মুমিনিনকে আসতে দেখলেন, তখন তাঁর বসার স্থান থেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং আলী (রা.)-কে নিজ স্থানে বসিয়ে তিনি তাঁর পাশে বসলেন। আলী (রা.) বিচারপতি শুরাইহকে বললেন, এই ব্যক্তির সঙ্গে আমার বিরোধ মিটিয়ে দিন।
শুরাইহ বললেন, আমিরুল মুমিনিন! আপনার বক্তব্য কী? আলী (রা.) বললেন, এই বর্মটি আমার। অনেক দিন হলো এটি হারিয়ে গেছে। আমি তা বিক্রি করিনি, দানও করিনি। শুরাইহ বললেন, ওহে খ্রিস্টান! আমিরুল মুমিনিন যা বলছেন, সে ব্যাপারে তুমি কী বলতে চাও? খ্রিস্টান বললেন, ‘আমি আমিরুল মুমিনিনকে মিথ্যাবাদিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করছি না, তবে বর্মটি আমারই।’
তখন শুরাইহ (আলী রা.-কে উদ্দেশ্য করে) বললেন, ‘বর্মটি তো তার দখলে রয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়া সেটি ফিরিয়ে নেওয়া যাবে বলে আমি মনে করি না। আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে কি?’
আলী (রা.) হেসে ফেললেন এবং বললেন, শুরাইহ ঠিকই বলেছেন। আমার কাছে তো কোনো প্রমাণ নেই। তখন শুরাইহ খ্রিস্টানের পক্ষে রায় দিলেন এবং তিনি বর্মটি নিয়ে রওনা হলেন। কিন্তু কিছু দূর গিয়ে আবার ফিরে এলেন এবং বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে এটাই নবীদের বিধান ও শিক্ষা। আমিরুল মুমিনিন নিজের দাবী বিচারকের সামনে পেশ করেছেন, আর বিচারক তার বিপক্ষে রায় দিচ্ছেন। আল্লাহর কসম, হে আমিরুল মুমিনিন! এটা আপনারই বর্ম। আমি এটি আপনার কাছে বিক্রয় করেছিলাম। পরে তা আপনার মেটে রঙের উটটির উপর থেকে ছিটকে পড়ে গেলে আমি ওটা তুলে নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।’
আলী (রা.) বললেন, তুমি যখন মুসলমান হয়ে গেলে, এ বর্ম এখন থেকে তোমার। অতঃপর আলী (রা.) তাকে ভালো দেখে একটি ঘোড়াও উপহার দিলেন এবং তাতে চড়িয়ে তাকে বিদায় দিলেন।
ইমাম শাবি বলেন, আমি পরবর্তীকালে ওই নওমুসলিমকে নাহরাওয়ানের যুদ্ধে খারেজিদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে দেখেছি। অপর বর্ণনায় শাবি বলেন, আলী (রা.) এছাড়া তার জন্য দুই হাজার দিরহাম ভাতাও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। অবশেষে লোকটি সিফফিনের যুদ্ধে আলী (রা.)-এর পক্ষে লড়াই করে শহিদ হন। (বায়হাকি, সুনানুল কুবরা: ১০/১৩৬ হা/২০২৫২, ১০/১৩৬; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ৮/৫)
এই ঘটনার শিক্ষা হলো- ইসলাম ন্যায়বিচারের ধর্ম। ন্যায়বিচার মানবতাকে সমুন্নত করে। আল্লাহর আইনের সামনে রাজা-প্রজা সবাই সমান। বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে যোগ্য, মহৎ ও সৎ-সাহসী দেখে। ইসলামি খেলাফতে মুসলিম-অমুসলিম সকল নাগরিকের অধিকার সমান। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাহাবিদের জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।