ধর্ম ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
আত্মীয়, বন্ধু কিংবা পরিচিত কেউ বললেন, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন।’ তখন কী বলে উত্তর দেবেন? শুধু ‘ইনশাআল্লাহ, দোয়া করব’ বলাই কি যথেষ্ট, নাকি তার জন্য বিশেষ কোনো দোয়া করা যায়? এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবনেই রয়েছে সুন্দর দৃষ্টান্ত।
আনাস (রা.)-এর মা উম্মে সুলাইম (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে এসে আনাস (রা.)-এর জন্য দোয়ার আবেদন করেন। তখন নবীজি (স.) দোয়া করেন-
আরবি: اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আকছির মালাহু ওয়া ওয়ালাদাহু, ওয়া বারিক লাহু ফিমা আ'তাইতাহু।
অর্থ: হে আল্লাহ! তার সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন এবং তাকে যা দান করেছেন, তাতে বরকত দিন। (সহিহ বুখারি: ৬৩৪৪)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, অন্যের জন্য তার প্রয়োজন অনুযায়ী দোয়া করা উত্তম।
আরও পড়ুন: অন্যের জন্য দোয়া করলে সঙ্গে সঙ্গে যা পাবেন
আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে ফেরেশতা বলেন, আমিন! তোমার জন্যও অনুরূপ।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭৩২)
পরিস্থিতি অনুযায়ী এভাবে উত্তর দিতে পারেন-
অসুস্থ হলে: ‘আল্লাহ আপনাকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন।’
বিপদে পড়লে: ‘আল্লাহ আপনার বিপদ দূর করে দিন।’
রিজিকের প্রয়োজনে: ‘আল্লাহ আপনার রিজিকে বরকত দিন।’
কোনো কাজের জন্য: ‘আল্লাহ আপনার কাজ সহজ করে দিন এবং উত্তম পরিণতি দান করুন।’
কেউ দোয়া চাইলে ‘ইনশাআল্লাহ, দোয়া করব’ বলে আশ্বাস দেওয়া যায়। তবে শুধু আশ্বাস দিয়েই থেমে থাকা উচিত নয়। কথাটি বলার পর তার জন্য দোয়া করে নেওয়াই উত্তম। সম্ভব হলে তখনই দোয়া করুন। এতে তার কল্যাণ কামনা করা হবে, আর নিজের জন্যও ফেরেশতার দোয়া লাভ হবে।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৬৩৪৪; সহিহ মুসলিম: ২৭৩২