ধর্ম ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ছোটবেলায় কোরআন পড়া শেখা হয়নি। এখন বয়স হয়েছে, জিহ্বা আড়ষ্ট, স্মৃতিও আগের মতো নেই। এ অবস্থায় কি কোরআন শেখা জরুরি, নাকি সুযোগ ফুরিয়ে গেছে? ইসলামের নির্দেশনা হলো, নামাজ শুদ্ধভাবে আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিরাত শেখা প্রত্যেক মুসলমানের ব্যক্তিগত দায়িত্ব। তবে পুরো কোরআন মুখস্থ করা সবার ওপর ফরজ নয়, আবার কোরআন শেখার জন্য বয়স বাধা নয়।
ইসলামে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মুসলমানের ওপর নামাজ ফরজ। নামাজে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করতে হয়। তাই নামাজ শুদ্ধভাবে আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিরাত শেখা প্রত্যেক মুসলমানের ব্যক্তিগত দায়িত্ব। শৈশবে কোরআন শেখা না হলেও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এই দায়িত্ব থেকে কেউ মুক্ত হন না।
সুরা ফাতেহা পড়া এবং ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে এর সঙ্গে অন্য সুরা বা নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়াত পড়া আবশ্যক। কিছু মাজহাবে কিরাতের পরিমাণ ও বিধানে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পুরো কোরআন মুখস্থ করা ফরজ নয়। তবে নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় অংশ শুদ্ধভাবে পড়তে পারা জরুরি। বিশেষ করে এমন ভুল এড়িয়ে চলতে হবে, যাতে হরফ বা শব্দের অর্থ বদলে যায়।
তাজবিদের সব সূক্ষ্ম ও কারিগরি নিয়ম আলাদাভাবে আয়ত্ত করা প্রত্যেকের ওপর ফরজ নয়। তবে শুদ্ধ উচ্চারণে কোরআন পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মগুলো শেখা জরুরি। পুরো কোরআন পড়তে শেখা, নিয়মিত তেলাওয়াত করা এবং এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করাও একজন মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সাধনা।
কোরআন শেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন।’ (সুরা মুজাদালাহ: ১১)
ইমাম বুখারি (রহ.)-এর সহিহ বুখারির কিতাবুল ইলমে বয়স্ক অবস্থায়ও জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে অধ্যায় ও বর্ণনা স্থান পেয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও বয়স বেশি হওয়ার পর দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
যারা জীবনের শেষ দিকে কোরআন শেখা শুরু করেন, তাদের উচ্চারণে ভুল হওয়া বা বারবার আটকে যাওয়া স্বাভাবিক। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কষ্ট করে আটকে আটকে কোরআন পড়ে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।’ (সহিহ বুখারি: ৪৯৩৭)
তাই ভুলের ভয়ে কোরআন শেখা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। ধৈর্য ধরে অনুশীলন করতে হবে এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকের কাছে পড়ে উচ্চারণ শুদ্ধ করে নিতে হবে।
যারা আরবি হরফ চেনেন না, তারা প্রথমে হরফ পরিচয় ও সঠিক উচ্চারণ দিয়ে শুরু করবেন। এরপর ধাপে ধাপে হরকত, মাখরাজ, শব্দ গঠন ও ছোট সুরা শিখবেন। যারা আগে থেকে পড়তে পারেন, তারা শিক্ষকের কাছে তেলাওয়াত শুনিয়ে ভুল সংশোধন করবেন।
এ ক্ষেত্রে মসজিদভিত্তিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইমাম-খতিব, মাদরাসার শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কর্মজীবী ও বয়স্কদের সুবিধাজনক সময়ে কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ (সহিহ বুখারি: ৫০২৭)
সুতরাং, শৈশবে কোরআন শেখা হয়নি বলে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। বয়স যা-ই হোক, আন্তরিকতা ও নিয়মিত চেষ্টার মাধ্যমে কোরআন শেখা শুরু করা যায়। নামাজ শুদ্ধভাবে আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিরাত শেখার দায়িত্ব প্রত্যেক মুসলমানের।
তথ্যসূত্র: সুরা মুজাদালাহ: ১১; সহিহ বুখারি: ৪৯৩৭, ৫০২৭; মারাকিল ফালাহ ও রদ্দুল মুহতার