ধর্ম ডেস্ক
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মাইক্রোফিল্মে ধারণকৃত ৩৪ হাজার ৬১৫টি পাণ্ডুলিপি এবং ৯১৬টি মূল কাগজের পাণ্ডুলিপি ডিজিটাইজ করা হয়েছে। এসব পাণ্ডুলিপির ইতিহাস সপ্তম হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে থাকা উল্লেখযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপির মধ্যে রয়েছে হাদিসবিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-মাফাতিহ ফি শরহিল মাসাবিহ’। মাযহারুদ্দিন আজ-জায়দানি (মৃত্যু ৭২৭ হিজরি) রচিত এ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিটি ৭১৯ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়। এতে রয়েছে ১৯১টি পাতা।
আরও পড়ুন: মক্কায় ৪০০ বছরের পুরনো কোরআন: পাতায় পাতায় স্বর্ণের কারুকাজ
সংগ্রহে আরও রয়েছে ‘তাওয়ালিউল আনওয়ার’ নামের একটি পাণ্ডুলিপি। হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দ নিয়ে রচিত এ গ্রন্থের লেখক নাসিরুদ্দিন আল-বায়দাবি (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি)। পাণ্ডুলিপিটি ৭৮০ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়। এতে রয়েছে ১৮০টি পাতা। পাণ্ডুলিপি দুটি মাশরিকি বা প্রাচ্যাঞ্চলীয় আরবি লিপিতে লেখা।
বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এসব পাণ্ডুলিপি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ইসলামি ঐতিহ্যের মূল উৎসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে তারা গবেষণা ও পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার কাজে মূল পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা করতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন যুগে আলেমদের গ্রন্থ রচনা ও পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করার পদ্ধতি সম্পর্কেও জানতে পারেন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ১০০০ বছরের পুরনো কোরআনের পাণ্ডুলিপি উন্মোচন
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাণ্ডুলিপিগুলোর ডিজিটাইজেশন তাদের ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচির অংশ। এর লক্ষ্য কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সেবা উন্নত করা এবং পাণ্ডুলিপি সংগ্রহকে আরও সহজলভ্য করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পাণ্ডুলিপি প্ল্যাটফর্মে’ লেখকের নাম বা পাণ্ডুলিপির শিরোনাম দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়। এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিকভাবে পাণ্ডুলিপি দেখার এবং নির্দিষ্ট পাণ্ডুলিপির ডিজিটাল কপি পাওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি