Dhaka Mail Logo

ইসলাম

মাদরাসায় শিশু সুরক্ষা নিয়ে যা বললেন আজহারী

ধর্ম ডেস্ক

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইসলামি আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী। এ জন্য প্রতিটি মাদরাসায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা এবং নির্যাতনের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজের এক পোস্টে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন আজহারী। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ গঠনে মাদরাসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পাঠদানের মান ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারও জরুরি।

আজহারীর মতে, মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও আত্মসমালোচনার সুযোগ থাকা উচিত। সমস্যাগুলো নিজেদের উদ্যোগে চিহ্নিত করে সমাধান করা না হলে বাইরের পক্ষগুলো সেগুলোকে কাজে লাগাতে পারে। এতে পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘শান্তির বাংলাদেশ চাই, সংঘাতের নয়’

মাদরাসার অবকাঠামো, পাঠদানের মান, শিক্ষক নিয়োগ ও তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা, কার্যকর নজরদারি এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখার কথা বলেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি শিশু মনস্তত্ত্ব ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

শিশুদের শারীরিক শাস্তি, মারধর, নির্যাতন কিংবা অনুপযুক্ত স্পর্শের মতো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে আজহারী বলেন, শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। প্রতিটি মাদরাসায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা থাকা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ও গোপনীয়তা বজায় রেখে অভিযোগ জানাতে পারে।

কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং এমন ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে দায়িত্বে নিয়োগের ঝুঁকি ঠেকানোর বিষয়টিও পোস্টে তুলে ধরা হয়।

মাদরাসার অনুমোদন ও নিবন্ধন, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলেন আজহারী। এ জন্য আলেম-ওলামা, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, অভিভাবক, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, সীমিত সম্পদের কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

আজহারীর বক্তব্যের উদ্দেশ্য মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়। পোস্টে বলা হয়, শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদরাসার প্রতি মানুষের আস্থা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাই এর লক্ষ্য।