ধর্ম ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ পিএম
বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর ইসলামি দিনপঞ্জি অনুযায়ী জুমাবার শুরু হয়। এ রাত ও দিনকে ঘিরে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, জুমার দিনে যেমন দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত আছে, রাতেও কি তেমন কোনো সময় রয়েছে? এ বিষয়ে প্রচলিত ধারণার পাশাপাশি সহিহ হাদিসের নির্দেশনা জানা জরুরি।
সহিহ বুখারি (৬৪০০) ও সহিহ মুসলিমে (৮৫২) বর্ণিত হয়েছে, জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইলে তিনি তাকে তা দান করেন। সময়টি কখন, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত থাকলেও দুটি মত বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।
প্রথম মত অনুযায়ী, সময়টি আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) জুমার দিনের আছরের শেষ সময়ে এ মুহূর্ত অনুসন্ধান করতে বলেছেন। (সুনান আবু দাউদ: ১০৪৮)
দ্বিতীয় মত অনুযায়ী, সময়টি ইমাম খুতবার জন্য বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এ সময়ের কথা এসেছে (সহিহ মুসলিম: ৮৫৩)। তবে এ বর্ণনার সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিতে বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি অনেক আলেম গুরুত্ব দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জুমাবারের গুরুত্বপূর্ণ ৪ দোয়া
জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তের কথা হাদিসে এসেছে। তবে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর শুরু হওয়া জুমার রাতের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করার নির্ভরযোগ্য সহিহ দলিল পাওয়া যায় না।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) অন্য রাত বাদ দিয়ে শুধু জুমার রাতকে রাতের নামাজের জন্য নির্দিষ্ট করতে নিষেধ করেছেন (সহিহ মুসলিম: ১১৪৪)। এর অর্থ এ নয় যে এ রাতে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির বা দোয়া করা যাবে না। এসব ইবাদত অন্য রাতের মতো জুমার রাতেও করা যায়। তবে শুধু এ রাতের জন্য বিশেষ কোনো ইবাদত-পদ্ধতি বা দোয়া কবুলের নির্দিষ্ট সময় শরিয়তের প্রমাণ ছাড়া নির্ধারণ করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: জুমার দিনের এক ঘণ্টা: যে সময়ের দোয়া ফেরত যায় না
জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশ এসেছে (সুনান আবু দাউদ: ১০৪৭)। ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী, নবীজি (স.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ প্রতিদিনই মুস্তাহাব, তবে জুমার দিন ও রাতে তা আরও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা উত্তম।
এ ছাড়া সপ্তাহের প্রতিটি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়া ও ইস্তিগফারের গুরুত্বপূর্ণ সময়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) জানিয়েছেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ আহ্বান করেন, কে তাঁকে ডাকবে, তিনি তার ডাকে সাড়া দেবেন, কে তাঁর কাছে চাইবে, তিনি তাকে দেবেন এবং কে ক্ষমা চাইবে, তিনি তাকে ক্ষমা করবেন। (সহিহ বুখারি: ১১৪৫)
তাই জুমার রাতেও অন্য রাতের মতো শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদ পড়ে দোয়া করা যায়। পাশাপাশি শুক্রবার আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিও দোয়ার জন্য কাজে লাগানো ভালো।
সারকথা, জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত সহিহ হাদিসে প্রমাণিত। তবে জুমার রাতের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নির্ভরযোগ্য সহিহ দলিল পাওয়া যায় না। তাই প্রমাণিত আমল অনুসরণ করে দোয়া, দরুদ ও ইস্তেগফারে সময় কাটানোই উত্তম।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৯৩৫, ১১৪৫; সহিহ মুসলিম: ৮৫২, ৮৫৩, ১১৪৪; সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭, ১০৪৮