Dhaka Mail Logo

ইসলাম

ইজতেমা ২০২৭: সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য চায় ওলামা মাশায়েখ

ধর্ম ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুফতি কেফায়তুল্লাহ আজহারী।

বক্তারা বলেন, দ্বীনি কার্যক্রম ও বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে সরকারের সহযোগিতার জন্য তাঁরা সরকারপ্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণও কামনা করেন।

বক্তারা জানান, গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের অধীনে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা দুই ধাপে আয়োজনের কথা রয়েছে। প্রথম ধাপ ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

তবে গত ৯ অক্টোবর কালের কণ্ঠের অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মুফতি ওসামা ইসলাম দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে ২০২৭ সালের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি টঙ্গীতে সাদপন্থীদের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। ওই আয়োজনে ভারতের নিজামুদ্দিন থেকে মাওলানা সাদ কান্ধলভী অংশ নেবেন বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন: ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের প্রবেশ বন্ধসহ ৮ দফা দাবি 

এ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন আশ্বাস দিয়েছেন কি না, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। ইজতেমার তারিখ ও আয়োজন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তাঁরা সরকারের প্রকৃত অবস্থান জানানোর আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সহিংসতার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু বক্তব্য ও নির্দেশনা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রেখেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত পহেলা বৈশাখ ও শবে মেরাজ-সংক্রান্ত একটি বক্তব্য নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বক্তব্য নিয়ে ধর্মীয় মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং পরে মুফতি ওসামা ইসলাম ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান।

পাঁচ দফা দাবি

১. হামলার মামলার তদন্ত ও বিচার: ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে চার্জশিট দাখিল এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

২. বিভ্রান্তিকর ভিডিও বার্তার তদন্ত: বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭ নিয়ে প্রচারিত ভিডিও বার্তার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। সাদপন্থী নেতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে ওসামা ইসলামের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও পড়ুন: বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশে স্থায়ী হলো যেভাবে

৩. উসকানিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. নিহতদের পরিবার ও আহতদের সহায়তা: নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. তাবলিগের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ বন্ধে নীতিমালা: তাবলিগ জামাতের বিষয়ে সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

বক্তারা বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সুষ্ঠু আয়োজন, ধর্মীয় পরিবেশের সুরক্ষা এবং অতীতের সহিংসতার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তাঁরা দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর তারিখ ও আয়োজন নিয়ে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাঝহারী, মাওলানা সালাউদ্দিন, মাওলানা আনিসুর রহমান এবং সংগঠনের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।