Dhaka Mail Logo

ইসলাম

গ্রিসের পাহাড় থেকে মসজিদে নববীর শীতল মেঝে এবং মিশরীয় স্থপতির গল্প

ধর্ম ডেস্ক

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

মুসলিমদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র দুই স্থান মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে মিশরীয় স্থপতি ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাইলের নাম। তার নকশা ও তত্ত্বাবধানে দুই পবিত্র মসজিদের বড় ধরনের সম্প্রসারণের কাজ পরিচালিত হয়েছিল।

তবে তার জীবনকে ঘিরে প্রচলিত একটি গল্পে উঠে এসেছে গ্রিসের থাসোস দ্বীপের বিশেষ ধরনের মার্বেল এবং মসজিদে নববীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বিস্ময়কর ঘটনা।

প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে মক্কার মসজিদুল হারামের বিস্তৃত প্রাঙ্গণে বিশেষ ধরনের সাদা মার্বেল ব্যবহার করা হয়। থাসোস মার্বেল নামে পরিচিত এই পাথরের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, প্রচণ্ড রোদেও এর পৃষ্ঠ তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকে। ফলে গরম আবহাওয়ায় তাওয়াফ করা মুসল্লিদের জন্য এটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

গ্রিসের একটি পাহাড়ের বড় অংশ থেকে এই মার্বেল সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় পরিমাণ মার্বেল সংগ্রহ করে মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গণে তা স্থাপন করা হয়।

marbel

এর প্রায় এক দশক পর মদিনার মসজিদে নববীর বৃহৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সামনে আসে। মসজিদুল হারাম সম্প্রসারণকাজে ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাইলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নকশা ও পরিকল্পনার দায়িত্বও তাকে দেন সৌদি বাদশাহ ফাহদ বিন আবদুল আজিজ। 

মসজিদে নববীর কাজ শুরু হলে একই ধরনের মার্বেল ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু সমস্যা ছিল—প্রথম দফায় মসজিদুল হারামে ব্যবহারের পর গ্রিসে ওই মার্বেল আর অবশিষ্ট আছে কি না, তা জানা ছিল না।

মার্বেলটি সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করতে ড. ইসমাইল গ্রিসে যান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে দেখা করেন। কোম্পানির প্রধান তাকে জানান, প্রথম চালান বিক্রি হওয়ার পর অবশিষ্ট মার্বেলও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অন্য একজন ক্রেতা কিনে নিয়েছিলেন।

বিষয়টি শুনে হতাশ হলেও ড. ইসমাইল অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেন। তিনি কোম্পানির পুরোনো নথি ও রেকর্ড খুঁজে দেখার জন্য অনুরোধ করেন এবং সেখানে নিজের হোটেলের যোগাযোগের তথ্য রেখে যান।

প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিনই আসে সেই বিস্ময়কর ফোনকল আসে। পুরোনো নথি ঘেঁটে কোম্পানি সেই ক্রেতার পরিচয় খুঁজে পেয়েছিল। আরও আশ্চর্যের বিষয়—ক্রেতাটি সৌদি আরবেই ছিলেন।

ড. ইসমাইল সৌদিতে ফিরে সরাসরি ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বহু বছর আগে কেনা পুরো মার্বেলের মজুত এখনও একটি গুদামে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

মসজিদে নববীর জন্য মার্বেলটি প্রয়োজন—এ কথা জানিয়ে ড. ইসমাইল মূল্য পরিশোধের প্রস্তাব দেন। এমনকি একটি খালি চেকও দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যবসায়ী তা গ্রহণ করেননি।

তিনি বলেছিলেন, আল্লাহই তাকে ওই মার্বেল কিনতে দিয়েছিলেন এবং এত বছর তা গুদামে পড়ে থাকার পেছনেও হয়তো একটি উদ্দেশ্য ছিল। যখন তিনি জানতে পারেন, মার্বেলগুলো মসজিদে নববীর সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে, তখন তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মার্বেলগুলো দিয়েছিলেন। 

madina2

শেষ পর্যন্ত মদিনার মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণের মেঝেতে মার্বেলগুলো ব্যবহৃত হয়। এভাবেই যে পাথর একসময় গ্রিসের পাহাড়ে ছিল, তা বহু বছর পর ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থানের আঙিনার অংশ হয়ে যায়।

ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাইলের স্থাপত্যকর্ম এবং ওই ব্যবসায়ীর অর্থ গ্রহণ না করার ঘটনা তাই শুধু একটি নির্মাণ প্রকল্পের গল্প হিসেবে নয়, বরং দুই পবিত্র মসজিদের সেবার সঙ্গে যুক্ত একটি আবেগঘন কাহিনি হিসেবেও মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।

সূত্র: হারামাইন আর্কাইভ

এমএইচআর