ধর্ম ডেস্ক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
নামাজে দাঁড়ালে অনেক সময় নানা চিন্তা মাথায় আসে। কখনো কাজের কথা, কখনো পরিবারের কথা, আবার কখনো অন্য কোনো বিষয় মনে পড়ে। এতে নামাজে মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। তবে এভাবে অনিচ্ছায় কোনো চিন্তা মনে এলে নামাজ নষ্ট হয় না।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের মনে যা আসে, সে ব্যাপারে তাদের ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না তারা তা কাজে পরিণত করে অথবা মুখে বলে।’ (সহিহ বুখারি: ৫২৬৯)
অর্থাৎ মনের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত কোনো চিন্তা চলে আসা এবং সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কাজে পরিণত করা বা মুখে প্রকাশ করা এক বিষয় নয়। তাই নামাজে হঠাৎ দুনিয়াবি কোনো কথা মনে পড়ে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। মনোযোগ আবার নামাজের দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।
নামাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার একটি কারণ শয়তানের ওয়াসওয়াসা। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, শয়তান নামাজির কাছে এসে বলে, ‘এটা স্মরণ করো, ওটা স্মরণ করো। বিস্মৃত বিষয়গুলো সে মনে করিয়ে দেয়। এভাবে লোকটি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, সে কয় রাকাত সালাত আদায় করেছে তা মনে করতে পারে না ‘ (সহিহ বুখারি: ৬০৮)
তাই অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা চলে এলে সেটিকে নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে আবার যে আয়াত, তাসবিহ বা দোয়া পড়া হচ্ছে, সেদিকে মনোযোগ ফেরানোর চেষ্টা করা উচিত।
আরও পড়ুন: নামাজে অযথা শরীর স্পর্শ করা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাদিস
নামাজে একাগ্রতা বাড়ানোর একটি উপায় হলো আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতি জাগ্রত রাখা। ইহসানের ব্যাখ্যায় রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত বিশ্বাস রাখো যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।’ (সহিহ বুখারি: ৫০, সহিহ মুসলিম: ৮)
এই সচেতনতা নামাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
১. চিন্তাটিকে গুরুত্ব দেবেন না
হঠাৎ কোনো দুনিয়াবি চিন্তা এলে সেটি নিয়ে ভাবতে থাকবেন না। যে আয়াত, তাসবিহ বা দোয়া পড়ছেন, সেদিকে মনোযোগ ফিরিয়ে আনুন।
২. নামাজের অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন
সুরা ফাতিহা, কোরআনের আয়াত এবং নামাজের বিভিন্ন তাসবিহ-দোয়ার অর্থ জানা থাকলে সেগুলো পড়ার সময় অর্থের দিকে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর কোরআন আবৃত্তি করো ধীরে ধীরে, স্পষ্টভাবে।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল: ৪)
আরও পড়ুন: অর্থ বুঝে নামাজ পড়ার উপকার
৩. ধীরস্থিরভাবে নামাজ পড়ুন
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়াও।’ (সুরা বাকারা: ২৩৮)
তাড়াহুড়া না করে রুকু, সেজদা ও কিরাত যথাযথভাবে আদায় করলে নামাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে।
৪. নামাজের আগে মনকে প্রস্তুত করুন
নামাজে দাঁড়ানোর আগে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কিছুটা গুছিয়ে নেওয়া এবং মোবাইলসহ মনোযোগ নষ্ট করতে পারে এমন বিষয় দূরে রাখা উপকারী। কয়েক মুহূর্ত নিজের মনকে নামাজের জন্য প্রস্তুত করাও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা আপনাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আরাফ: ২০০)
তাই নামাজে বারবার মন চলে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং মনোযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত।
আরও পড়ুন: শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির উপায়
নামাজে দাঁড়িয়ে কোনো দুনিয়াবি বিষয় মনে পড়ে যাওয়া মানুষের ইচ্ছার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নাও থাকতে পারে। তাই এমন চিন্তা চলে এলে নামাজ ছেড়ে দেওয়া বা নতুন করে শুরু করার প্রয়োজন নেই। তবে নামাজের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলা আলাদা বিষয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় এই নামাজে মানুষের কথাবার্তার কোনো স্থান নেই। এটি তাসবিহ, তাকবির ও কোরআন তেলাওয়াতের স্থান।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৩৭)
নামাজের মধ্যে নিজের দুনিয়াবি প্রয়োজন নিয়ে দোয়া করার বিষয়েও ফিকহের বিস্তারিত বিধান রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো আমল করার আগে নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা জেনে নেওয়া ভালো।
মূল কথা, নামাজে হঠাৎ দুনিয়ার চিন্তা চলে আসা অনিচ্ছাকৃত হলে এতে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চিন্তাটিকে গুরুত্ব না দিয়ে আল্লাহর দিকে মন ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে। নামাজে একাগ্রতা ধরে রাখা নিয়মিত অনুশীলনের বিষয়।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৫০, ৬০৮, ৫২৬৯; সহিহ মুসলিম: ৮, ৫৩৭; সুরা বাকারা: ২৩৮; সুরা মুজ্জাম্মিল: ৪; সুরা আরাফ: ২০০