ধর্ম ডেস্ক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
মশা অতি পরিচিত একটি ক্ষুদ্র প্রাণী। আকারে ছোট হলেও মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পবিত্র কোরআনে এই ক্ষুদ্র প্রাণীর উল্লেখও এসেছে। সেখানে মশার উদাহরণের মাধ্যমে মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো বস্তুকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। যারা ঈমান এনেছে, তারা জানে, এটি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য। আর যারা অবিশ্বাস করেছে, তারা বলে, আল্লাহ এই উদাহরণ দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন?’ (সুরা বাকারা: ২৬)
এই আয়াতে আল্লাহ জানিয়েছেন, কোনো বিষয় বোঝাতে ছোট-বড় যেকোনো সৃষ্টিকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা তাঁর জন্য অসম্মানের কিছু নয়। তাফসিরে ইবনে কাসিরে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির যেকোনো বিষয়কে উদাহরণ হিসেবে পেশ করতে পারেন। মুমিনরা এতে আল্লাহর হেকমত উপলব্ধি করে, আর যারা সত্য থেকে সরে যায় তারা সেই উদাহরণ নিয়েই আপত্তি তোলে।
অর্থাৎ কোনো সৃষ্টি আকারে ছোট হওয়ায় তা তুচ্ছ হয়ে যায় না। সেই উদাহরণের মাধ্যমে কী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: কুকুর বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণী হত্যা: ইসলাম কী বলে
আয়াতের পরের অংশে মানুষের প্রতিক্রিয়ার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। মুমিনরা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা উদাহরণকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে। অন্যদিকে অবিশ্বাসীরা প্রশ্ন তোলে।
এখানে মানুষের অন্তরের অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পেয়েছে। আল্লাহর বাণী ও তাঁর দেওয়া উদাহরণ একজনের জন্য হেদায়েতের কারণ হতে পারে, আবার অন্য কেউ তা নিয়ে আপত্তি তুলে মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে যেতে পারে।
সুরা আল-বাকারার এই আয়াত থেকে কয়েকটি বিষয় বোঝা যায়। আল্লাহ মানুষকে বোঝানোর জন্য তাঁর সৃষ্টির যেকোনো বিষয়কে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন। কোনো সৃষ্টি ছোট হওয়ায় তা তুচ্ছ হয়ে যায় না। কোরআনের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিতে হলে তার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করে গালি দিলে কী হয়
তাই মশার উল্লেখকে শুধু একটি প্রাণীর বিবরণ হিসেবে দেখার পরিবর্তে আয়াতের মূল বক্তব্য বোঝা জরুরি। এর মাধ্যমে আল্লাহর বাণী গ্রহণ, সত্যের প্রতি বিনয় এবং তাঁর দেওয়া উদাহরণ নিয়ে চিন্তা করার বিষয়টি সামনে আসে।
মশাবাহিত রোগের প্রকোপের সময়ে এই আয়াত মানুষকে নিজের সীমাবদ্ধতা ও আল্লাহর সৃষ্টিজগতের প্রতি নতুন করে ভাবার সুযোগ দিতে পারে। একটি ক্ষুদ্র প্রাণীও মানুষের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে মানুষের শক্তি ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথাও স্মরণ করা যায়।
তবে রোগ প্রতিরোধে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মশার বংশবিস্তার রোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা উচিত।
নবী (স.) সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার একটি দোয়া শিখিয়েছেন- أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ‘আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।’ অর্থ- ‘আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।’
এই দোয়াটি কোনো স্থানে অবস্থান নেওয়ার সময় পড়ার কথা হাদিসে এসেছে। (সহিহ মুসলিম: ২৭০৮; সুনানে আবু দাউদ: ৩৮৯৮)
কোরআনে মশার উল্লেখের মূল উদ্দেশ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরা নয়। ক্ষুদ্র এই সৃষ্টিকে উদাহরণ হিসেবে সামনে রেখে আল্লাহ মানুষকে তাঁর বাণী থেকে শিক্ষা নিতে, সত্য গ্রহণ করতে এবং সৃষ্টিজগত নিয়ে ভাবতে বলেছেন।
তথ্যসূত্র: সুরা বাকারা: ২৬; সহিহ মুসলিম: ২৭০৮; সুনানে আবু দাউদ: ৩৮৯৮; তাফসির ইবনে কাসির