Dhaka Mail Logo

ইসলাম

ছোট গুনাহের অবহেলা যেভাবে বড় বিপদ ডেকে আনে

ধর্ম ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

মানুষ অনেক সময় বড় গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করলেও ছোট গুনাহকে তেমন গুরুত্ব দেয় না। মনে হয়, ‘এটি তো সামান্য ভুল, এর জন্য কীই বা হবে!’ এভাবে কোনো গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে বারবার করতে থাকলে একসময় তা মানুষের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে অণু পরিমাণও মন্দ কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে।’ (সুরা জিলজাল: ৮)

ছোট গুনাহ জমতে জমতে বিপদ ডেকে আনে

রাসুলুল্লাহ (স.) ছোট ছোট গুনাহ থেকেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা ছোট ছোট গুনাহ থেকে সাবধান হও।’ এরপর তিনি এর উদাহরণ দিয়ে বোঝান, মানুষ যেমন একটি একটি করে কাঠ সংগ্রহ করতে করতে একসময় তা দিয়ে আগুন জ্বালাতে পারে, তেমনি ছোট ছোট গুনাহ জমতে জমতে মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। (মুসনাদে আহমাদ: ৩৮১৮)

তাই কোনো গুনাহকে ছোট মনে করে নিয়মিত করতে থাকা নিরাপদ নয়। একটি গুনাহের পর আরেকটি গুনাহ করতে করতে মানুষ ধীরে ধীরে পাপে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ছোট-বড় সব গুনাহ মাফের দোয়া ও আমল

পাপকে তুচ্ছ মনে করাই বিপদ

একজন মুমিন গুনাহের বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘মুমিন তার পাপকে এমনভাবে দেখে, যেন সে একটি পাহাড়ের নিচে বসে আছে এবং আশঙ্কা করছে যে তা তার ওপর ভেঙে পড়বে। আর পাপাচারী তার পাপকে এমন একটি মাছির মতো দেখে, যা তার নাকে বসে চলে গেল।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩০৮)

গুনাহের ব্যাপারে এই সতর্কতা হারিয়ে গেলে মানুষ নিজের ভুলকে সহজেই স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করতে পারে। তখন গুনাহ ছেড়ে দেওয়া ও তাওবা করার তাগিদও কমে যায়।

বারবার গুনাহ করলে অন্তরে দাগ পড়ে

গুনাহের প্রভাব মানুষের অন্তরের ওপরও পড়ে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, বান্দা যখন একটি গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। সে গুনাহ ছেড়ে দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবা করলে তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। আর পুনরায় গুনাহ করলে সেই দাগ বাড়তে থাকে। (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৩৪)

তাই ছোট গুনাহের একটি বড় বিপদ হলো- তা বারবার করার অভ্যাস তৈরি হয়ে যাওয়া। এর ফলে সময়ের সঙ্গে পাপের প্রতি অন্তরের সংবেদনশীলতাও কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: যে ১০ গুনাহকে তুচ্ছ ভাবা হয়, অথচ পরিণতি ভয়াবহ

সাহাবিরা গুনাহকে হালকা করে দেখতেন না

আনাস (রা.) বলেন, ‘তোমরা এমন অনেক কাজ করছ, যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম বা নগণ্য। কিন্তু আমরা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর যুগে সেগুলোকে ধ্বংসকারী গুনাহ হিসেবে গণ্য করতাম।’ (সহিহ বুখারি)

সাহাবিদের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, গুনাহের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাওয়া কতটা বিপজ্জনক। কোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে থাকলে একসময় সেটি আর ভুল বলে মনে নাও হতে পারে।

কেয়ামতের দিন কোনোকিছুই বাদ যাবে না

দুনিয়ায় কোনো কাজকে সামান্য মনে হলেও কেয়ামতের দিন তা হিসাবের বাইরে থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা বলবে- এ কেমন কিতাব, যা ছোট-বড় কোনোকিছুই বাদ দেয় না, সবকিছুর হিসাব রেখেছে।’ (সুরা কাহাফ: ৪৯)

অতএব, কোনো গুনাহকে ‘এটা তো সামান্য’ বলে অবহেলা করা উচিত নয়। একজন মুমিনের উচিত নিজের প্রতিটি কাজের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাবদিহির কথা মনে রাখা।

গুনাহ হয়ে গেলে কী করবেন?

গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে দ্রুত তাওবা ও ইস্তেগফার করা উচিত। ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সেই গুনাহ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।

একই ভুল যেন বারবার না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। যে পরিবেশ, অভ্যাস বা পরিস্থিতি মানুষকে গুনাহের দিকে টেনে নেয়, সেগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করাও জরুরি।

অতএব, গুনাহ ছোট মনে করে বারবার করা বিপজ্জনক। এতে পাপের অভ্যাস তৈরি হতে পারে এবং অন্তরের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই গুনাহ হয়ে গেলে তা হালকা মনে না করে দ্রুত তাওবা করা এবং একই গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করা উচিত।