ধর্ম ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
রমজানের ফরজ রোজার পাশাপাশি অনেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় নফল রোজা রাখেন। কিন্তু নফল রোজা শুরু করার পর কোনো কারণে তা ভেঙে ফেললে কী করতে হবে; কাজা করতে হবে, নাকি কাফফারা দিতে হবে? এ বিষয়ে মাজহাবভেদে ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। হানাফি ফিকহে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, নফল রোজা শুরু করার পর বিনা ওজরে তা ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। কোনো সঙ্গত ওজরের কারণে রোজা ভেঙে ফেললে পরে ওই রোজার কাজা করতে হবে। অর্থাৎ শুরু করা নফল রোজা পূর্ণ না হলে পরবর্তীতে একটি রোজা রেখে তার কাজা আদায় করতে হবে।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন তিনি ও হজরত হাফসা (রা.) নফল রোজা রেখেছিলেন। পরে তাদের সামনে পছন্দের খাবার এলে তারা তা খেয়ে নেন। বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে জানানো হলে তিনি তাদের অন্য একদিন রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (তিরমিজি: ৭৩৫; মেশকাতুল মাসাবিহ: ২০৮০)
এই বর্ণনাকে আলেমরা নফল রোজা ভেঙে গেলে কাজা করার বিধানের অন্যতম দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে নফল রোজা ভেঙে ফেলার বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবের ফকিহদের মধ্যে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে মাজহাবভিত্তিক বিধান উল্লেখ করে বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: নফল রোজার উত্তম সময়
নফল রোজা শুরু করার পর তা ভেঙে ফেললে একটি রোজা কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না। অর্থাৎ রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলার সঙ্গে নফল রোজার বিধান এক নয়। নফল রোজা ভেঙে গেলে হানাফি মাজহাবে কাজা ওয়াজিব হয়, তবে কাফফারার বিধান নেই।
মেহমান আসা মাত্রই নফল রোজা ভেঙে ফেলার সাধারণ নিয়ম নেই। তবে এমন পরিস্থিতিতে, যেখানে রোজা চালিয়ে গেলে মেহমানের কষ্ট বা অসন্তুষ্টির আশঙ্কা থাকে, সেখানে নফল রোজা ভাঙার অবকাশের কথা ফকিহরা উল্লেখ করেছেন।
এ ধরনের কারণে রোজা ভেঙে ফেললেও হানাফি আলেমদের মতে, পরে ওই রোজার কাজা করতে হবে। তাই নফল রোজা রাখার আগে নিজের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেওয়া ভালো।
রোজার কথা মনে না থাকায় কেউ ভুল করে খাওয়া বা পান করলে রোজা নষ্ট হয় না। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কেউ রোজা অবস্থায় ভুলে খাওয়া বা পান করলে সে যেন রোজা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম: ১১৫৫)
তাই ভুলে খাওয়া বা পান করার পর বিষয়টি মনে পড়লে রোজা চালিয়ে যেতে হবে। এতে রোজা নষ্ট হবে না এবং কাজাও করতে হবে না।
আরও পড়ুন: রোজা ভেঙে যাওয়া নিয়ে ৩০ ভুল ধারণা অনেকেরই আছে
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের আমলগুলোকে নষ্ট করে দিও না।’ (সুরা মুহাম্মদ: ৩৩)
এই আয়াত নফল রোজা ভেঙে ফেললে কাজা করতে হবে-এমন সরাসরি বিধান দিচ্ছে না। তবে ইবাদত শুরু করার পর অকারণে তা নষ্ট না করার বিষয়ে আয়াতটি সাধারণ শিক্ষা দেয়।
শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী নফল রোজা ভেঙে ফেললে কাজা ওয়াজিব নয়। নফল রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি-সংক্রান্ত হাদিসগুলো তাদের মতের অন্যতম দলিল।
মোটকথা, নফল রোজা রাখা ঐচ্ছিক ইবাদত। তবে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী একবার নফল রোজা শুরু করার পর বিনা ওজরে তা ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। কোনো ওজরে রোজা ভেঙে ফেললে পরে একটি রোজা কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না।
আর ভুলে খাওয়া বা পান করলে রোজা নষ্ট হয় না এবং কাজাও করতে হয় না। তাই নফল রোজার ক্ষেত্রে নিজের অনুসৃত মাজহাবের বিধান জেনে আমল করা উচিত।
তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম: ১১৫৫; তিরমিজি; মেশকাতুল মাসাবিহ: ২০৮০; রদ্দুল মুহতার ২/৪২৮; আল-মাবসুত; হানাফি ফিকহের সংশ্লিষ্ট গ্রন্থ ও ফতোয়া