ধর্ম ডেস্ক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার শুরু হতে পারে। বর্তমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী এ তারিখকে সম্ভাব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে রমজানের চূড়ান্ত সূচনা নির্ধারিত হবে নতুন চাঁদ দেখার ওপর।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস শুরু হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর। এর ফলে আগামী রমজান শুরুর আগে এখন বাকি রয়েছে প্রায় পাঁচটি চান্দ্র মাস।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৭, রোববার সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। ওই সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সেদিন রাতেই প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করা হবে। পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম রোজা শুরু হতে পারে।
তবে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না গেলে রমজান শুরু এক দিন পিছিয়ে যেতে পারে। ফলে ৮ ফেব্রুয়ারির তারিখটি এখনো সম্ভাব্য। চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রমজানের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে।
আরও পড়ুন: নবীজি ও সাহাবিদের রমজান প্রস্তুতি যেমন ছিল
ইসলামি বর্ষপঞ্জি চান্দ্র হওয়ায় এর একটি বছর সাধারণত প্রায় ৩৫৪ দিনের। গ্রেগরিয়ান বছরের তুলনায় এটি প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট। ফলে প্রতিবছর রমজান আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে।
এভাবে প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্রে বছরের বিভিন্ন ঋতুতে রমজান ফিরে আসে। ফলে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে মুসলমানরা বছরের বিভিন্ন সময়ে রমজানের রোজা পালনের সুযোগ পান।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে। এরপর শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা গেলে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ১০ মার্চ ২০২৭, বুধবার ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ তারিখও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: রমজান যেসব কারণে মহিমান্বিত
রমজান ইসলামি বর্ষপঞ্জির নবম মাস। মুসলমানদের কাছে এটি বছরের অন্যতম পবিত্র সময়। এ মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয় বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন।
রমজান মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন মুসলমানরা। একই সঙ্গে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা, আত্মসংযম ও অন্যান্য ইবাদতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের মাধ্যমে নতুন চাঁদের অবস্থান ও দৃশ্যমানতার সম্ভাবনা আগেই নির্ণয় করা সম্ভব। তবে ইসলামি রীতি অনুযায়ী রমজানের আনুষ্ঠানিক সূচনা চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভরশীল।