Dhaka Mail Logo

ইসলাম

মায়ের দোয়ার শক্তি

ধর্ম ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম

ঘরের দেয়াল, আসবাব কিংবা আলো কোনোকিছুই ঘরকে সত্যিকার অর্থে ‘ঘর’ বানায় না। মায়ের উপস্থিতি, স্নেহ ও দোয়া একটি ঘরকে পূর্ণতা দেয়। সন্তান যত দূরেই থাকুক, তার ভালো থাকা, নিরাপদ থাকা ও সঠিক পথে থাকার আকাঙ্ক্ষা মায়ের হৃদয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। ইসলামে মায়ের এই মর্যাদা শুধু আবেগের বিষয় নয়, কোরআন ও হাদিসেও এর সুস্পষ্ট ভিত্তি রয়েছে।

মায়ের ত্যাগের স্বীকৃতি

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই।’ (সুরা লুকমান: ১৪)

মায়ের গর্ভধারণ, প্রসব ও লালন-পালনের কষ্টকে কোরআন বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘আপনার রব আদেশ করেছেন, তোমরা তিনি ছাড়া অন্যকারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করবে।’ (সুরা ইসরা: ২৩)

তাই মায়ের প্রতি সদাচরণ শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, এটি আল্লাহর নির্দেশও।

আরও পড়ুন: সন্তানের জন্য মায়ের দোয়া

সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়- ১. পিতা-মাতার দোয়া, ২. মুসাফিরের দোয়া, ৩. মজলুমের দোয়া।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৬)

হাদিসে সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়ার বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে। তাই মায়ের আন্তরিক দোয়া সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে দোয়া কবুলের ধরন ও সময় আল্লাহর হিকমতের ওপর নির্ভরশীল। এটিকে কোনো নির্দিষ্ট ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

মায়ের হক এত বেশি কেন

এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, সদাচরণের সবচেয়ে বেশি হকদার কে? তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ তিনি আবার জানতে চাইলে বললেন, ‘তোমার মা।’ তৃতীয়বারও একই উত্তর দিয়ে চতুর্থবার বললেন, ‘তারপর তোমার বাবা।’ (সহিহ বুখারি: ৫৯৭১)

মায়ের দীর্ঘ ত্যাগ ও সন্তানের প্রতি দায়িত্বের কারণেই তাঁর প্রতি সদাচরণকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই মায়ের কাছে নিজের জন্য দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি তাঁর অধিকার আদায়ের চেষ্টাও জরুরি।

আরও পড়ুন: মায়ের দোয়ায় ইমাম বুখারির চোখ ফিরে পাবার ঘটনা 

দোয়ার পাশাপাশি মায়ের যত্ন

মায়ের দোয়া পেতে হলে শুধু প্রয়োজনের সময়ে তাঁর কথা মনে করলে চলবে না। কোমলভাবে কথা বলা, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা, অসুস্থতায় সেবা করা এবং তাঁর মনে কষ্ট না দেওয়ার চেষ্টা- এগুলোও সন্তানের দায়িত্ব। 

মায়ের জন্যও দোয়া করতে হবে

সন্তান শুধু মায়ের কাছ থেকে দোয়া নেবে- ইসলামের শিক্ষা এমন নয়। কোরআনে মা-বাবার জন্যও দোয়া শেখানো হয়েছে- رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا উচ্চারণ: ‘রব্বির হামহুমা কামা রব্বায়ানি সগিরা।’ অর্থ: ‘হে আমার রব, তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা ইসরা: ২৪)

এই দোয়ায় সন্তানের পক্ষ থেকে মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার প্রকাশ রয়েছে।

মায়ের দোয়া চেষ্টা বন্ধ করার কারণ নয়

মায়ের দোয়া সন্তানের নিজের দায়িত্ব ও চেষ্টা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয় না। চাকরি চাইলে চেষ্টা করতে হবে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে হবে, সমস্যায় সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। পাশাপাশি মায়ের কাছে দোয়া চাওয়া এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করা একজন মুমিনের সুন্দর অভ্যাস হতে পারে।

মা জীবিত থাকলে তাঁর সান্নিধ্য, দোয়া ও খেদমতের সুযোগকে মূল্য দেওয়া উচিত। আর মা ইন্তেকাল করলে তাঁর জন্য দোয়া ও সাধ্যমতো সদকায়ে জারিয়ার আমলের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়।

তথ্যসূত্র: সুরা লুকমান: ১৪; সুরা ইসরা: ২৩-২৪; সহিহ বুখারি: ৫৯৭১; আবু দাউদ: ১৫৩৬