Dhaka Mail Logo

ইসলাম

চাকরি পাওয়ার কোরআনি আমল

ধর্ম ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে কাঙ্ক্ষিত চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে একটি ভালো কাজ পাওয়া অনেকের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। এমন অনিশ্চয়তার মুহূর্তে কোরআনে বর্ণিত নবী মুসা (আ.)-এর একটি ঘটনা জীবিকার সন্ধানে থাকা মানুষের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

কূপের পাশে সেই দোয়া

মিসর থেকে মাদইয়ানে পৌঁছে মুসা (আ.) একদিন একটি কূপের কাছে আসেন। সেখানে দেখেন, একদল মানুষ তাদের পশুগুলোকে পানি পান করাচ্ছে। একটু দূরে দুই নারী নিজেদের পশুগুলোকে আগলে রেখেছেন। তারা জানান, রাখালরা সরে না গেলে তারা পশুগুলোকে পানি পান করাতে পারেন না এবং তাদের বাবা বৃদ্ধ।

মুসা (আ.) তাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়ে একটি ছায়ার নিচে আশ্রয় নেন। এরপর নিজের প্রয়োজনের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরে দোয়া করেন এভাবে-

 رَبِّ إِنِّى لِمَآ أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ 

উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস: ২৪)

লক্ষণীয়, মুসা (আ.) নির্দিষ্ট কোনো চাকরি বা কাজের কথা বলেননি। তিনি আল্লাহর কাছে নিজের মুখাপেক্ষিতার কথা জানিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা কল্যাণের প্রয়োজনের কথা প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: রিজিকে বরকত লাভের ৯ আমল: কোরআন ও সহিহ হাদিসে যা বলা হয়েছে

দোয়ার পর খুলে যায় সুযোগের দরজা

এরপর মুসা (আ.)-এর জীবনে নতুন সুযোগ আসে। দুই নারীর একজন তাঁর বাবাকে মুসা (আ.)-কে কাজে নিয়োগের পরামর্শ দেন। বলেন, ‘হে আমার পিতা, আপনি তাকে মজুর হিসেবে নিয়োগ করুন। নিশ্চয়ই আপনার নিয়োগকৃতদের মধ্যে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’ (সুরা কাসাস: ২৬)

পরবর্তী সময়ে মুসা (আ.)-এর জন্য কাজ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়।

এই ঘটনায় দোয়ার পাশাপাশি মানুষের উপকারে এগিয়ে আসা এবং নিজের দায়িত্ব পালনের শিক্ষাও রয়েছে। মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন জানিয়েছেন, একই সঙ্গে তিনি দুই নারীর পশুগুলোকে পানি পান করিয়ে তাদের সহযোগিতা করেছিলেন।

তাকওয়া ও তাওয়াক্কুলের শিক্ষা

কোরআনের আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক: ২-৩)

তাই জীবিকার সন্ধানে একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং বৈধ পথে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

আরও পড়ুন: বিয়ে করলে রিজিক বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি: কোরআন-হাদিসের দলিল

শুধু দোয়া নয়, চেষ্টাও জরুরি

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করতে, তাহলে তিনি তোমাদের রিজিক দিতেন যেমন তিনি পাখিদের রিজিক দেন। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।’ (জামে তিরমিজি: ২৩৪৪)

পাখির এই উদাহরণে তাওয়াক্কুলের সঙ্গে চেষ্টা ও কর্মতৎপরতার শিক্ষাও রয়েছে। তাই চাকরিপ্রত্যাশীর উচিত দোয়ার পাশাপাশি চাকরির আবেদন করা, প্রস্তুতি নেওয়া, দক্ষতা বাড়ানো এবং বৈধ সুযোগ খোঁজা।

একই সঙ্গে প্রতারণা, ঘুষ কিংবা অন্যের অধিকার নষ্ট করে জীবিকা অর্জনের পথ থেকে দূরে থাকতে হবে। একজন মুমিনের লক্ষ্য শুধু চাকরি পাওয়া নয়, হালাল ও বরকতময় রিজিক অর্জন করা।

মুসা (আ.)-এর এই দোয়া জীবিকার প্রয়োজনের সময়ে আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষিতা প্রকাশের সুন্দর দৃষ্টান্ত। চাকরিপ্রত্যাশী মুসলিম দোয়ার পাশাপাশি হালাল রিজিকের জন্য চেষ্টা ও তাওয়াক্কুল বজায় রাখবেন। দোয়া, চেষ্টা ও তাওয়াক্কুল- এ তিনটিই মুমিনের পথচলার শক্তি।

তথ্যসূত্র: সুরা কাসাস: ২৩-২৬; সুরা তালাক: ২-৩; জামে তিরমিজি: ২৩৪৪