ধর্ম ডেস্ক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। সপ্তাহের এই দিনে ইবাদত-বন্দেগির বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এ দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণের কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’ এরপর তিনি বলেন, সময়টি খুবই অল্প। (সহিহ মুসলিম: ৮৫২)
তবে সেই বিশেষ সময়টি ঠিক কখন, এ বিষয়ে একাধিক বর্ণনা রয়েছে। আলেমদের মধ্যে প্রসিদ্ধ দুটি মত হলো, ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসা থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগের শেষ সময়।
আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) জুমার দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময় সম্পর্কে বলেছেন, ‘ইমাম বসার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৫৩; সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৯)
অর্থাৎ খতিব খুতবার জন্য মিম্বরে বসার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টিও দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে হাদিসে উল্লেখ হয়েছে।
এ সময়ে মুসল্লির দায়িত্ব হলো মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং ইবাদতে মনোযোগী থাকা। খুতবার সময় নীরব থাকার বিষয়টি ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
আরও পড়ুন: জুমার দিনে যে আমলের ফজিলত সবচেয়ে বেশি
আরেকটি শক্তিশালী মত অনুযায়ী, জুমার দিনের বিশেষ সময়টি আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিন বারো ঘণ্টা। এর মধ্যে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তোমরা তা দিনের শেষ সময়ে আছরের পর অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮)
এই হাদিসের ভিত্তিতে অনেক আলেম আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে দিনের শেষ ভাগে দোয়া ও জিকিরে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময় নির্ধারণে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও খুতবার সময় এবং আছরের পর দিনের শেষ ভাগ- এ দুটি মত সবচেয়ে প্রসিদ্ধ।
তাই নির্দিষ্ট একটি সময়ের ওপর নির্ভর না করে একজন মুসলিম খতিব মিম্বরে বসার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত উভয় সময়ে দোয়া করতে পারেন।
ইমাম ইবনে আবদুল বার (রহ.) বলেন, দোয়া কবুলের আশায় প্রত্যেক মুসলিমের উচিত উল্লিখিত দুই সময়ে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা। (আততামহিদ: ১৯/২৪)
আরও পড়ুন: খুতবার সময় একটি 'টু শব্দ' কেড়ে নিতে পারে জুমার ফজিলত
জুমার দিনের শেষ ভাগটি দোয়া, জিকির ও ইবাদতে কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে মাগরিবের অপেক্ষায় মসজিদে অবস্থান করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা উত্তম সুযোগ।
হাদিসে ‘নামাজরত অবস্থায়’ দোয়া করার যে কথা এসেছে, তার ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেছেন, নামাজের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিও নামাজের হুকুমের মধ্যে থাকেন। তাই মাগরিবের অপেক্ষায় থেকে দোয়া করাও এ ফজিলতের আওতায় আসতে পারে।
অতএব, জুমার দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে খুতবার সময় থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময় উভয় সময়েই আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের দোয়া কবুল করুন এবং দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ দান করুন। আমিন।
তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম: ৮৫২-৮৫৩; সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮-১০৪৯; আততামহিদ: ১৯/২৪