ধর্ম ডেস্ক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কখনো এমন পরিস্থিতি আসে, যখন কেউ নিজের পরিবারের কোনো ব্যক্তিগত কথা বলতে শুরু করেন। হতে পারে দাম্পত্য জীবনের সমস্যা, পরিবারের কারও ভুল, আর্থিক সংকট কিংবা ঘরের কোনো গোপন বিষয়। তিনি নিজে থেকেই কিছুটা বলছেন। তখন প্রশ্ন আসে- আরও কিছু জানতে চাইব, নাকি এখানেই থেমে যাওয়া উচিত?
কেউ নিজের ব্যক্তিগত কথা বলছেন মানেই তার জীবনের আরও গভীরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া গেল-বিষয়টি এমন নয়। ইসলাম মানুষের সম্মান ও গোপনীয়তার প্রতি সতর্ক থাকতে শিক্ষা দিয়েছে।
কেউ নিজের জীবনের কোনো ঘটনা বললে তিনি যতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যে বলেছেন, ততটুকুই শোনা উচিত। এরপর ‘আসলে কী হয়েছিল?’, ‘কার সঙ্গে সমস্যা?’, ‘তারপর কী হয়েছে?’ এভাবে একের পর এক প্রশ্ন করে ব্যক্তিগত তথ্য বের করে নেওয়া ঠিক নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজুরাত: ১২)
তাই প্রশ্ন করার আগে ভাবা উচিত- বিষয়টি জানা কি সত্যিই প্রয়োজন, নাকি নিছক কৌতূহল? যদি জানার পেছনে বাস্তব প্রয়োজন না থাকে, সেখানেই থেমে যাওয়া ভালো।
আরও পড়ুন: অন্যের গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ: ইসলামের সতর্কবার্তা
কখনো কারও ব্যক্তিগত আলাপ অনিচ্ছায় কানে চলে আসতে পারে। এমন হলে মনোযোগ দিয়ে শোনা বা পরে সেই কথার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা উচিত নয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো এক দলের কথা কান পেতে শোনে, অথচ তারা তা অপছন্দ করে, কেয়ামতের দিন তার কানে গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৭০৪২)
মানুষ অনেক সময় আবেগের মুহূর্তে এমন কথা বলে ফেলেন, যা পরে প্রকাশ করতে অনুতপ্ত হতে পারেন। তাই কেউ নিজেই ব্যক্তিগত কথা বলতে শুরু করলেও তাকে আরও উৎসাহিত করে গোপন তথ্য বের করে নেওয়া উচিত নয়।
প্রয়োজনে বলা যায়, ‘আপনি যতটুকু বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, ততটুকুই বলুন।’
কেউ বিশ্বাস করে ব্যক্তিগত কোনো কথা বললে তা রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কেউ কোনো কথা বলার পর মুখ ঘুরালে (কেউ শুনছে কি না তা দেখলে) তা আমানতস্বরূপ।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৬৮)
আরও পড়ুন: যে ৬ বিষয় মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখা উত্তম
তাই কারও ব্যক্তিগত কথা আড্ডা, পারিবারিক আলোচনা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এমন তথ্য, যা প্রকাশ পেলে তার সম্মান বা সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ব্যক্তিগত আলাপে কারও দোষ বা দুর্বলতার কথা উঠে আসতে পারে। তা অন্যের কাছে বলা বা পরে সেই তথ্য দিয়ে তাকে বিব্রত করা উচিত নয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৮০)
সব ব্যক্তিগত বিষয়ে নীরব থাকাই ইসলামের শিক্ষা নয়। কেউ যদি কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধানের জন্য আপনার পরামর্শ চান, তখন প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য জানা যেতে পারে। যেমন পারিবারিক বিরোধ, দাম্পত্য সমস্যা কিংবা নিরাপত্তার বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিতে কিছু তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তবে নীতি হওয়া উচিত- প্রয়োজন যতটুকু, প্রশ্নও ততটুকু।
অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে কোথায় থামতে হয়, সেই সীমাবোধই মুমিনের বিচক্ষণতা। সবকিছু জানা জ্ঞানের পরিচয় নয়, কোন কথা না জানতে হয়, তা বুঝতে পারাও প্রজ্ঞা।
তথ্যসূত্র: সুরা হুজুরাত: ১২; সহিহ বুখারি: ৭০৪২; সহিহ মুসলিম: ২৫৮০; সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৬৮