Dhaka Mail Logo

ইসলাম

জুমার দিনে যে আমলের ফজিলত সবচেয়ে বেশি

ঢাকা মেইল ডেস্ক

২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিন জুমা মানে অসংখ্য ফজিলত ও দোয়া কবুলের বিশেষ এক মুহূর্ত। এই দিনকে কেন্দ্র করেই মুসলিম সমাজের সাপ্তাহিক বৃহত্তম ইবাদত ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জুমার দিনের অনেক ফজিলত হাদিস শরিফে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেন, ‘সমস্ত দিনের নেতা হলো জুমার দিন। জুমার দিন আল্লাহ–তাআলার নিকট সবচেয়ে মহান দিবস। 

এমনকি তা আল্লাহ–তাআলার কাছে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর তথা ইসলামের দুই ঈদের দিন থেকেও মহান।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

তাই প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হলো জুমার দিনের মাহাত্ম্য হৃদয়ে ধারণ করা, এর ফজিলত সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং কোরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত আমলসমূহ যথাযথভাবে পালন করে এ দিনের বরকত ও রহমত থেকে পূর্ণভাবে উপকৃত হওয়া।

এ দিনের সুন্নত হলো—ভালোভাবে পাক–পবিত্র হয়ে পরিষ্কার ও উত্তম জামাকাপড় পরিধান করে প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে চলে যাওয়া এবং নামাজ ও দোয়া-জিকিরে মগ্ন থাকা।

আরেক বর্ণনায় নবীজি (সা.) বলেন, ‘যেসব দিনের ওপর সূর্য উদিত হয়, সেসব দিনের মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আর কিয়ামতও জুমার দিনেই সংঘটিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

এই দিনের ফজিলত আল্লাহর কাছে এত বেশি যে কেউ যদি জুমার রাতে কিংবা জুমার দিবসে মারা যায়, আল্লাহ–তাআলা দয়া করে তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন বা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করে, তাকে কবরের ফিতনা (আজাব) থেকে রক্ষা করা হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৬৬৪৬)

জুমার দিনের বড় আমল কোনটি

জুমার দিনের সবচেয়ে বড় আমল তো হলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিন যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয়, যদি তোমরা তা উপলব্ধি করো।’ (সুরা জুমুআহ, আয়াত: ৯)

এ দিনের সুন্নত হলো—ভালোভাবে পাক–পবিত্র হয়ে পরিষ্কার ও উত্তম জামাকাপড় পরিধান করে প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে চলে যাওয়া এবং নামাজ ও দোয়া-জিকিরে মগ্ন থাকা। এরপর একাগ্রতার সঙ্গে ইমাম সাহেবের খুতবা শ্রবণ করা।

জুমার দিনের সবচেয়ে বড় আমল তো হলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুন্নত অনুসারে ভালোভাবে গোসল করবে, সকাল সকাল মসজিদে আসার জন্য রওনা দেবে, বাহনে আরোহণ না করে পায়ে হেঁটে যাবে, ইমামের নিকট বসবে, গুরুত্বসহকারে খুতবা শ্রবণ করবে এবং অহেতুক কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকবে; তাহলে (মসজিদের পথে রাখা) প্রতিটি কদমের বিনিময়ে পূর্ণ এক বছর নফল রোজা রাখা এবং এক বছর নফল নামাজ পড়ার সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)

জুমার দিনের আরও ৩টি আমল

১. সুরা কাহাফ পাঠ

জুমার দিনের একটি বিশেষ আমল হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এমন এক নূর আলোকিত হবে, যা এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার জীবনকে আলোকিত করে রাখবে।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৬২০৯)

২. আসরের পর দোয়া

জুমার দিন এমন এক পবিত্র মুহূর্ত রয়েছে, যে সময় দোয়া করলে মহান আল্লাহ–তাআলা তা অবশ্যই কবুল করেন।

জুমার দিন এমন এক পবিত্র মুহূর্ত রয়েছে, যে সময় দোয়া করলে মহান আল্লাহ–তাআলা তা অবশ্যই কবুল করেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণকর বিষয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। সুতরাং তোমরা সেই সময়টি আসরের পর দিনের শেষ মুহূর্তে অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

এই হাদিস শরিফে বিশেষভাবে জুমার দিন আসরের পর মাগরিবের আগের মুহূর্তে দোয়া করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

৩. দরুদ পড়া

জুমার দিনের আরেকটি বিশেষ আমল হলো বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা যে ব্যক্তি জুমার দিনে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, তার সেই দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়।’ (বাইহাকি আস-সুনানুল কুবরা , ৩/২৪৯)

এআরএম