ঢাকা মেইল ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় গণক, জ্যোতিষী ও ভাগ্য গণনাকারীদের শরণাপন্ন হওয়ার ব্যাপারে মুসল্লিদের সতর্ক করেছেন ইমাম শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ। তিনি বলেছেন, সত্য স্বপ্ন বা রু’ইয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হতে পারে; তবে স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে কোনো ধর্মীয় বিধান নির্ধারণ করা যায় না।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জুমার খুতবায় শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ বলেন, মানুষ কখনো কখনো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার আগ্রহে গণক, জ্যোতিষী ও ভাগ্য গণনাকারীদের কাছে যায়। কিন্তু এ ধরনের ব্যক্তিদের কাছে যাওয়া এবং তাদের কথার ওপর নির্ভর করা থেকে মুসলমানদের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান আল্লাহ তায়ালারই।
প্রখ্যাত এই শায়খ বলেন, মানুষের জীবনে দেখা স্বপ্নকে এক ধরনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বপ্নের বিভিন্ন ধরন রয়েছে এবং প্রতিটি স্বপ্নের একই গুরুত্ব নেই। তাই কোনো স্বপ্ন দেখেই তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা করা ঠিক নয়।
খুতবায় মসজিদুল হারামের ইমাম স্বপ্নকে প্রধানত তিন ভাগে ব্যাখ্যা করেন। প্রথমত, সত্য স্বপ্ন বা রু’ইয়া—যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হতে পারে। এমন স্বপ্ন মানুষের জন্য কল্যাণের বার্তা বা আনন্দের কারণ হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সত্য স্বপ্ন হলেও তা শরিয়তের কোনো নতুন বিধান প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, শয়তানের পক্ষ থেকে আসা দুঃস্বপ্ন। এ ধরনের স্বপ্ন মানুষকে ভয়, অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে। এমন স্বপ্নকে গুরুত্ব না দিয়ে অন্যের কাছে প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বরং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে তা এড়িয়ে চলা উচিত।
তৃতীয়ত, দৈনন্দিন চিন্তা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। মানুষ দিনের বিভিন্ন ঘটনা, চিন্তা, ভয়, আশা-আকাঙ্ক্ষা কিংবা মানসিক ব্যস্ততার কারণে ঘুমের মধ্যে সেসবের প্রতিফলন দেখতে পারে। এ ধরনের স্বপ্নকে কোনো আধ্যাত্মিক বার্তা বা ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ বলেন, স্বপ্নের ব্যাখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি অনুমাননির্ভর বা হালকাভাবে করার বিষয় নয়। স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য কোরআন-সুন্নাহ, ইসলামি জ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
দুঃস্বপ্ন দেখলে করণীয়
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ব্যক্তির দেখা স্বপ্ন শুনে নিজের ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা দেওয়া কিংবা স্বপ্নকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে ভয়, আশা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। বিশেষ করে ধর্মীয় বিধান, আকিদা বা মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শুধু স্বপ্নের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক।
খুতবায় তিনি মুসলমানদের গণক, জ্যোতিষী ও ভবিষ্যৎ গণনার দাবিদারদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। মানুষের অজানা বিষয় জানার আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই প্রতারণা ও বিভ্রান্তির পথ তৈরি করে থাকে।
তিনি মুসলমানদের আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল, কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা এবং শরিয়তের সুস্পষ্ট বিধানের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান। সূত্র: হারামাইন আর্কাইভ
জেবি