ধর্ম ডেস্ক
১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
জুমার দিন খুতবা শুরু হওয়ার পর মসজিদে পৌঁছালে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, এখন কি সরাসরি বসে খুতবা শুনবেন, নাকি আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন?
এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের মতে, খুতবা চললেও মসজিদে প্রবেশকারী দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করবেন। হানাফি ও মালেকি মাজহাবের মতে, খুতবা শুরু হয়ে গেলে নামাজ না পড়ে বসে খুতবা শুনবেন।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, জুমার দিন সুলায়ক আল গাতাফানি এসে উপস্থিত হলো, রাসুলুল্লাহ (স.) তখন খুতবা দিচ্ছিলেন। সে বসে পড়লে তিনি তাকে বলেন, হে সুলায়ক উঠে সংক্ষেপে দু’রাকাআত সালাত আদায় করো। অতঃপর তিনি (স.) বললেন, জুমার দিন তোমাদের কেউ যখন আসে যে তখন ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তখন সে যেন দু’রাকাআত সালাত আদায় করে ’ (সহিহ মুসলিম: ৮৭৫)
এই হাদিসের সরাসরি নির্দেশনার ভিত্তিতে শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের আলেমরা খুতবা চলাকালে মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তির জন্য সংক্ষেপে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের কথা বলেছেন।
আরও পড়ুন: জুমার খুতবা শোনার ফজিলত: যা বারবার স্মরণ করিয়েছেন নবীজি
হানাফি ও মালেকি ফকিহদের মতে, ইমাম খুতবা শুরু করলে নামাজ না পড়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে হবে। হানাফি ফিকহে খুতবা চলাকালে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় না করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
এই মতের পক্ষে খুতবার সময় নীরবতা ও মনোযোগের গুরুত্বকে বিবেচনা করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় তুমি যদি তোমার পাশের জনকে বলো- ‘চুপ করো’, তাহলে তুমি অনর্থক কথা বললে।’ (সহিহ বুখারি: ৯৩৪)
এ ছাড়া তাবেয়ি সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব ও যুহরি (রহ.) বলেন, ‘ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামাজ পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না।’ (মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা: ৪/১০৩-১০৪)
এ বিষয়ে ইবনু আব্বাস (রা.) ও ইবনু ওমর (রা.)-এর আমলও হানাফি ফিকহের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, তাঁরা ইমামের খুতবার সময় নামাজ ও কথা বলা অপছন্দ করতেন।
হানাফি আলেমরা সুলাইক (রা.)-এর হাদিসেরও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ওই নির্দেশকে খুতবা চলাকালে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ার সাধারণ বিধান হিসেবে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে হাদিসটির প্রয়োগ, খুতবার সময় নীরব থাকার বিধান এবং সাহাবায়ে কেরামের আমল একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জুমার খুতবা দুই রাকাত নামাজের সমতুল্য?
বাংলাদেশে হানাফি মাজহাবের অনুসারী মুসল্লির সংখ্যা বেশি। তাই হানাফি মাজহাবের আমল করা মসজিদে খুতবা শুরু হয়ে গেলে সরাসরি বসে খুতবা শোনাই প্রচলিত আমল।
অন্যদিকে শাফেয়ি বা হাম্বলি মাজহাবের মত অনুসরণকারী কেউ খুতবা চলাকালে মসজিদে প্রবেশ করলে সংক্ষেপে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করবেন।
অতএব, এ বিষয়ে একে অপরকে ভুল বলা উচিত নয়। এটি স্বীকৃত ফিকহি মতভেদের একটি বিষয়। এ ধরনের ফিকহি মতভেদে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা উচিত। তবে জুমার দিন খুতবা শুরুর আগেই মসজিদে পৌঁছানোই উত্তম। এতে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করে শুরু থেকেই মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার সুযোগ হয়।
তথ্যসূত্র: মুসলিম: ৮৭৫; বুখারি: ৪৪৪, ১১৬৩, ৯৩৪; মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা