ধর্ম ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইসলামি আলোচক মাওলানা তারিক জামিল স্মরণ করেছেন প্রয়াত শিল্পী, নাশিদশিল্পী ও উপস্থাপক জুনায়েদ জামশেদের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের কথা। তিনি বলেন, সেই সাক্ষাতে জুনায়েদের একটি প্রশ্নই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে মাওলানা তারিক জামিল বলেন, ১৯৯৭ সালে জুনায়েদ জামশেদ ছিলেন পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা। সুদর্শন, দীর্ঘদেহী ও সফল গায়ক হিসেবে তাঁর ব্যাপক খ্যাতি ছিল। তারিক জামিলের ভাষায়, সে সময় পাকিস্তানে তাঁর মতো জনপ্রিয় শিল্পী খুব কমই ছিলেন।
তিনি জানান, প্রথম সাক্ষাতে প্রায় ১০ মিনিটের কথোপকথনের একপর্যায়ে জুনায়েদ তাঁকে বলেন, ‘আমার কাছে সেই খ্যাতি ও গ্ল্যামার আছে, যার স্বপ্ন প্রায় প্রতিটি পাকিস্তানি দেখে। কিন্তু আমার হৃদয় শূন্য। আমার মনে হয়, আমি এমন একটি নৌকায় আছি, যার কোনো গন্তব্য নেই।’
তারিক জামিল বলেন, এ কথাগুলো এমন একজন মানুষের মুখ থেকে এসেছিল, যিনি দুনিয়াবি সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন।
আরও পড়ুন: ফাস্টফুডে কি বাড়ছে রাগ ও অস্থিরতা? যা বললেন মাওলানা তারিক জামিল
তিনি জানান, এরপর আল্লাহ তাআলা জুনায়েদ জামশেদের জন্য দ্বীনের পথে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করে দেন। ধীরে ধীরে তিনি দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে জুনায়েদ প্রায়ই বলতেন, দ্বীনের পথে আসার পর আল্লাহ তাঁকে যে প্রশান্তি ও নেয়ামত দিয়েছেন, গানের জগতে থাকাকালে তা কখনো অনুভব করেননি।
তারিক জামিল আরও বলেন, তিনি একসময় জুনায়েদকে বলেছিলেন, ‘আপনি ক্ষতের ওপর ভুল ওষুধ লাগাচ্ছেন। আপনি গ্ল্যামারের মধ্যে শান্তি খুঁজছেন। অথচ প্রকৃত শান্তি আল্লাহর কাছেই পাওয়া যায়।’
তিনি জানান, ২০০২ সালে জুনায়েদ জামশেদ প্রথমবারের মতো তাবলিগের সফরে যান। সেই সফরেই তিনি জীবনের অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করেন।
মাওলানা তারিক জামিল বলেন, আল্লাহ তাআলা জুনায়েদ জামশেদকে দ্বীনের খেদমতের তাওফিক দিয়েছেন, সম্পদ দিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাতের মর্যাদাও দান করেছেন। তাঁর ভাষ্য, জুনায়েদ নিজেও বলতেন, দ্বীনের পথে আসার পর তিনি যে তৃপ্তি ও প্রশান্তি পেয়েছেন, তা গানের ক্যারিয়ারে কখনো অনুভব করেননি।
শেষে তারিক জামিল বলেন, আজকের প্রজন্মের অনেকেই প্রকৃত প্রশান্তি কী, তা জানে না।
সূত্র: পাকিস্তানের জং নিউজ