ধর্ম ডেস্ক
০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন কেন ব্যক্তিগত ঋণ, চিকিৎসা কিংবা আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের কাছে সরাসরি নগদ সহায়তা দেয় না, সে বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, প্রতিদিন ফাউন্ডেশনের কাছে সরাসরি, ফেসবুক ও ইমেইলের মাধ্যমে অসংখ্য সহায়তার আবেদন আসে। কারও ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা, আবার কারও ৫০ কোটি টাকা। প্রতিটি আবেদনই সংবেদনশীল এবং এসব আবেদন তাদের ব্যথিত করে। তবে বাস্তবতা হলো, প্রতিদিন যে পরিমাণ আবেদন আসে, তার আর্থিক পরিমাণ ফাউন্ডেশনের পুরো বছরের বাজেটের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা। এত বড় বাজেট দিয়েও মানুষের সব ধরনের সমস্যা কিংবা স্বাস্থ্য খাতের সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয় না। সেখানে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাজেটের একটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সব ধরনের ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধান করা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, সীমিত বাজেট দিয়ে যদি ব্যক্তিগত ঋণ বা চিকিৎসার জন্য সরাসরি নগদ অর্থ বিতরণ শুরু করা হয়, তাহলে বড় ধরনের নীতিগত ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একাধিক পদে জনবল নেবে
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘দেখা যাবে, বিভিন্ন সুপারিশ, তদবির বা চেনাজানার বৃত্তেই পুরো তহবিল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেই প্রান্তিক অভাবী মানুষ, যার সুপারিশ করার কেউ নেই, সেই মানুষগুলো পুরোপুরি বঞ্চিত হবে। যা কখনো একটি আদর্শ চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের নীতি হতে পারে না।’
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের ভাষ্য, একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ বিতরণ করা নয়, বরং দাতাদের আমানতের সর্বোচ্চ মূল্য সৃষ্টি করা। সে কারণেই তারা দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তিনি জানান, গত বছর ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি ট্রেডে দুই হাজার ১০০ জনের বেশি নারী-পুরুষকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রথম বছরেই তারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪২ কোটি টাকা আয় করেছেন এবং এই আয় ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
একই অর্থ সরাসরি বিতরণ করলে তাৎক্ষণিক উপকার মিললেও সেখানেই তা শেষ হয়ে যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সেই অর্থ দীর্ঘমেয়াদে বহুগুণ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ‘কাউকে প্রতিদিন মাছ কিনে দেওয়ার চেয়ে তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দেওয়া আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মূল দর্শন।’
আরও পড়ুন: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের 'মিডিয়া কানেক্ট সামিট' অনুষ্ঠিত
ব্যক্তিগত ঋণগ্রস্ত বা অসুস্থ মানুষকে সহায়তা করাকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা ব্যক্তিগত, মসজিদভিত্তিক বা এলাকাভিত্তিক উদ্যোগে বেশি কার্যকর। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে আবেদনকারীদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা তুলনামূলক সহজ।
তিনি আরও জানান, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন প্রকল্পভিত্তিক কাজ করে। কোন খাতের অনুদান কোন প্রকল্পে ব্যয় হবে, তা তাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের জন্য উন্মুক্ত আবেদন আহ্বান করা হয়। পরে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশের সুযোগ থাকে না।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি দোয়া, আস্থা ও সহযোগিতার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আল্লাহর কাছে সবার নেক প্রচেষ্টা কবুল হওয়ার প্রার্থনা করেন।