ধর্ম ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
পবিত্র কাবাঘরের জিয়ারত, তাওয়াফ ও নির্ধারিত ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো ওমরা। হজের নির্ধারিত সময় ছাড়া বছরের যেকোনো সময় এই পবিত্র ইবাদত পালন করা যায়। একজন মুমিনের জীবনে ওমরা কেবল একটি সফর নয়, এটি তওবা, আত্মশুদ্ধি, অন্তরের প্রশান্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের এক অনন্য সুযোগ।
রাসুলুল্লাহ (স.) হাদিসে ওমরার বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদার কথা তুলে ধরেছেন। একাধিক হাদিসে ওমরার মাধ্যমে গুনাহ মাফ, সওয়াব অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্যবান মুমিনের জন্য ওমরা হতে পারে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক মহিমান্বিত ইবাদত।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এক ওমরা থেকে আরেক ওমরা মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা হয়। আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।’ (সহিহ বুখারি: ১৭৭৩)
এ হাদিসে ওমরার অন্যতম বড় ফজিলতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। আন্তরিকতা ও সঠিক নিয়মে আদায় করা ওমরা বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়।
আরও পড়ুন: হজযাত্রায় মৃত্যু হলে কেয়ামত পর্যন্ত হজের সওয়াব
রমজান মাসে ওমরা পালনের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) এক নারীকে বলেন, ‘রমজান এলে তখন ওমরা করে নিয়ো। কেননা রমজানের একটি ওমরা একটি হজের সমতুল্য।’ (সহিহ বুখারি: ১৭৮২)
তবে এর অর্থ ফরজ হজের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া নয়; বরং সওয়াবের দিক থেকে রমজানের ওমরাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরা আদায় করো। কেননা এ দুটি আমল দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেমন হাপরের আগুনে লোহা, সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে হয়।’ (সুনান তিরমিজি: ৮১০)
ইসলামে নারীদের জন্যও ওমরার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদের জন্য কি জিহাদ বাধ্যতামূলক? তিনি বলেন- হ্যাঁ, তাদের উপরও জিহাদ ফরজ, তবে তাতে অস্ত্রবাজি নাই। তা হচ্ছে হজ ও ওমরা।’ (সুনান ইবনে মাজাহ: ২৯০১)
এ হাদিসে নারীদের জন্য হজ ও ওমরার বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নারীরা কি স্বামীর টাকায় ফরজ হজ করতে পারবেন?
হজ ও ওমরা পালনকারীদের আল্লাহর মেহমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হাদিসে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী, হজকারী ও ওমরাকারী আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ তাদের আহ্বান করেছেন, তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। আর তারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছেন, তিনি তাদের তা দিয়েছেন।’ (সুনান ইবনে মাজাহ: ২৮৯৩)
হজ ও ওমরার উদ্দেশ্যে বের হওয়া ব্যক্তির জন্য রয়েছে বিশেষ সুসংবাদ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যায়, তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত হজের নেকি লেখা হতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যায়, তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত ওমরার নেকি লেখা হতে থাকবে।’ (সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব: ১১১৪)
ওমরা একজন মুমিনের হৃদয়কে বিনয়, ধৈর্য ও আল্লাহর স্মরণে পরিপূর্ণ করার সুযোগ। ইহরামের মাধ্যমে ধনী-গরিব সবাই একই অবস্থানে দাঁড়ান, যা ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য শিক্ষা তুলে ধরে। এই পবিত্র সফর একজন মুসলমানকে তওবা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে এগিয়ে দেয়।