ধর্ম ডেস্ক
২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
বছরে বারোটি মাস। প্রতিটি মাসেই নেক আমলের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এমন একটি রোজা আছে, যা রাখলে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (স.)। সেই রোজাটি কোনটি এবং কোন মাসে, তা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি নিজেই।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদ)।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬৩)
এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, রমজানের পর নফল রোজার মধ্যে মহররম মাসের রোজার মর্যাদা সর্বাধিক।
আরও পড়ুন: আশুরা: নূহ (আ.)-এর নৌকায় কি খিচুড়ি রান্না হয়েছিল?
মহররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো আশুরা (১০ মহররম)। এই দিনের পেছনে রয়েছে নবী মুসা (আ.)-এর এক ঐতিহাসিক ঘটনা। রাসুলুল্লাহ (স.) মদিনায় হিজরতের পর দেখতে পান, ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখে। তিনি এর কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, এ দিনে আল্লাহ মুসা (আ.) ও তাঁর জাতিকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউনকে সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছেন। এজন্য তারা শুকরিয়া হিসেবে রোজা রাখে।
এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘আমরা মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।’ এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং সাহাবিদের রোজা রাখতে নির্দেশ দেন। (সহিহ মুসলিম: ১১৩০) অন্য বর্ণনায় এসেছে- ‘তোমরা এ দিনে রোজা রাখো।’ (সহিহ মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজায় বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
আরও পড়ুন: আশুরার রোজা একদিন নাকি দুদিন, ২০২৬ সালে কবে পড়বে?
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘আগামী বছর বেঁচে থাকলে আমি অবশ্যই ৯ তারিখেও রোজা রাখব।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৩৪)
এই কারণে আলেমরা বলেন, ইহুদিদের সাথে পার্থক্য রক্ষার জন্য ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখা উত্তম।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন- ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে আশুরার দিনের রোজার মতো অন্যকোনো দিনের রোজাকে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি: ২০০৬; সহিহ মুসলিম: ১১৩২)
রমজানের পর নফল রোজার মধ্যে সর্বোত্তম হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। বিশেষ করে আশুরার রোজা গুনাহ মাফের এক বিরাট সুযোগ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তাই একজন মুমিনের উচিত এই মাসে রোজার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং নবীজির সুন্নাহ অনুসরণে ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা পালনের চেষ্টা করা।