ধর্ম ডেস্ক
২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনে রোজা রাখা সুন্নত এবং আল্লাহর কাছে অধিক নেকির আশা করা হয়। আশুরাকে ঘিরে মুসলিম সমাজে নানা ধরনের আমল ও আলোচনা দেখা যায়। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন অনেকের মনে আসে- আশুরার দিনে তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি পান করালে কি কোনো বিশেষ ফজিলত রয়েছে?
সহিহ হাদিসে আশুরার দিনে তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানোর আলাদা কোনো ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়নি। তাই এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত বক্তব্য বা ভিত্তিহীন বর্ণনা প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
তবে এর অর্থ এই নয় যে আশুরার দিনে কাউকে পানি পান করানো গুরুত্বহীন। বরং পানি পান করানো এমন একটি নেক আমল, যার মর্যাদা ইসলামে সবসময়ই উচ্চ।
একজন তৃষ্ণার্ত মানুষের হাতে এক গ্লাস পানি তুলে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বড় সওয়াবের কাজ। হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি পথ চলতে চলতে তৃষ্ণার্ত হয়ে একটি কূপ থেকে পানি পান করেন। পরে তিনি দেখতে পান, একটি কুকুর তৃষ্ণায় হাঁপাচ্ছে এবং মাটি চাটছে। তখন তিনি আবার কূপে নেমে নিজের মোজায় পানি ভরে কুকুরটিকে পান করান। এ কাজ আল্লাহ কবুল করলেন এবং এ কারণে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (সহিহ বুখারি: ২৩৬৩)
এই হাদিস প্রমাণ করে, একটি তৃষ্ণার্ত প্রাণীর তৃষ্ণা নিবারণও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হতে পারে।
আরও পড়ুন: মহররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়
হজরত সাদ ইবনে উবাদা (রা.) তাঁর মায়ের ইসালে সওয়াবের জন্য কোন সদকা উত্তম- এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ‘পানি।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৬৮১)
এ হাদিসের আলোকে বহু আলেম বলেছেন, পানির ব্যবস্থা করা এবং তৃষ্ণার্ত মানুষের কাছে পানি পৌঁছে দেওয়া অন্যতম উত্তম সদকা।
আশুরার মূল আমল হলো রোজা রাখা। তবে এ দিনকে কেন্দ্র করে দান-সদকা, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং মানুষের উপকার করার মানসিকতাও একজন মুমিনের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই কেউ যদি আশুরার দিনে পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ বা তৃষ্ণার্ত কোনো ব্যক্তিকে পানি পান করান, তাহলে তা অবশ্যই একটি নেক কাজ হবে। তবে এর ফজিলত পানি পান করানোর সাধারণ সওয়াবের অন্তর্ভুক্ত হবে; আশুরার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ ফজিলতের দাবির সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: আশুরার দিনে যেসব বিদআত নিয়ে সাবধান করেছেন আলেমরা
ইসলাম শুধু মানুষের প্রতিই নয়, সমগ্র প্রাণিজগতের প্রতিও দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। গরমের দিনে পাখি বা পশুর জন্য পানির পাত্র রাখা, পথের প্রাণীদের পানি পান করানো কিংবা জনসাধারণের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা- এসব কাজও মহান সওয়াবের মাধ্যম।
আশুরার দিনে তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানোর জন্য আলাদা কোনো সহিহ ফজিলত বর্ণিত না থাকলেও পানি পান করানো ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি সদকা। তাই এ দিনে কিংবা বছরের যেকোনো সময় তৃষ্ণার্ত মানুষ ও প্রাণীর তৃষ্ণা নিবারণে এগিয়ে আসা একজন মুমিনের উত্তম চরিত্রের পরিচয়। কারণ ইসলাম শুধু ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি মানবতা, দয়া ও কল্যাণের এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।