ধর্ম ডেস্ক
১৮ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ইসলাম মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের মতো দাম্পত্য জীবন সম্পর্কেও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর সহবাস বৈধ ও সওয়াবের কাজ হলেও এর পরবর্তী সময়ে পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও আদব রক্ষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ইসলামে রয়েছে। নিচে সহবাসের পর করণীয় সাতটি আমল হাদিস ও কোরআনের আলোকে তুলে ধরা হলো।
গোসল করার আগে প্রথম কাজ হলো শরীরের অপবিত্র স্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করা। এটি গোসলের অন্যতম প্রধান সুন্নাহ।
হজরত মায়মুনাহ (রা.) বলেন, আমি নবী (স.)-এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত ধুলেন। অতঃপর তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। (সহিহ বুখারি: ২৫৯)
সহবাসের পরপরই গোসল করা সম্ভব না হলে বা বিশ্রামের পর গোসল করতে চাইলে অজু করে নেওয়া সুন্নাহ।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) যখন অপবিত্র অবস্থায় ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি নামাজের অজুর মতো অজু করে নিতেন।’ (সহিহ বুখারি: ২৮৮)
আরও পড়ুন: গোসল ফরজ অবস্থায় খাওয়া-দাওয়া করা কি গুনাহ?
গোসল করার আগে যদি কিছু খাওয়া বা পান করার প্রয়োজন হয়, তবে হাত ধুয়ে নেওয়া বা অজু করা সুন্নাহ।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) জানাবাত অবস্থায় যখন আহার করতে অথবা নিদ্রা যেতে ইচ্ছা করতেন তখন তিনি অজু করতেন।’ (সুনানে নাসায়ি: ২৫৬)
একই রাতে পুনরায় দাম্পত্য মিলনে লিপ্ত হতে চাইলে মাঝখানে অজু করা সুন্নাহ।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যদি একবার সহবাস করার পর পুনরায় তা করতে চায়, সে যেন মাঝখানে অজু করে নেয়।’ (আবু দাউদ: ২২০)
স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় অন্য কারো কাছে প্রকাশ করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে, যে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং স্ত্রী তার সাথে মিলিত হয়, এরপর সে স্ত্রীর গোপনীয়তা লোকসমাজে প্রচার করে বেড়ায়।’ (সহিহ মুসলিম: ১৪৩৭)
আরও পড়ুন: নারীদের অজু-গোসল নামাজ-রোজার গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা
গোসলের আগে সুযোগ থাকলে প্রস্রাব করে নেওয়া একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও সতর্কতামূলক অভ্যাস হিসেবে ফিকহবিদদের অনেকে সুপারিশ করেছেন, যাতে গোসলের পর বীর্যের কোনো অবশিষ্টাংশ বের হয়ে পবিত্রতা নষ্ট না করে।
এটি মূলত ফিকহবিদদের সতর্কতামূলক পরামর্শ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি মূত্রনালির সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
সহবাসের পর নামাজ বা অন্য ইবাদতের জন্য পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনে গোসল করা ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তাহলে ভালোভাবে পবিত্র হও (গোসল করো)।’ (সুরা মায়েদা: ৬)
সহবাসের পর ফরজ গোসলে শরীরের প্রতিটি অংশে এবং চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো আবশ্যক। শরীরের কোনো অংশ শুকনো থাকলে গোসল পূর্ণাঙ্গ হবে না।
দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি কাজ যখন সুন্নাহ অনুযায়ী পালিত হয়, তখন তা বরকতময় হয়ে ওঠে। সহবাস পরবর্তী এই আমলগুলো ধর্মীয় বিধান ছাড়াও স্বাস্থ্য ও পারিবারিক শৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীজি (স.)-এর আদর্শ অনুসরণের তাওফিক দান করুন।
তথ্যসূত্র: কোরআন; সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম; সুনানে নাসায়ি