images

ইসলাম

হিল্লা বিয়ে আল্লাহর জমিনে নিকৃষ্টতম কাজ: শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক

১২ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

সমাজে ‘হিল্লা বিয়ে’র নামে প্রচলিত চুক্তির বিয়ে বা কন্ট্রাক্ট ম্যারেজকে আল্লাহর জমিনের অন্যতম নিকৃষ্ট ও নোংরা কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। 

এক মাহফিলে হিল্লা বিয়ের কুফল এবং এ বিষয়ে ইসলামের প্রকৃত বিধান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ইসলামের পবিত্র বিধানকে অপব্যবহার ও ফাঁকি দেওয়ার জন্য যারা হিল্লা বিয়ের আয়োজন করে, তাদের ওপর আল্লাহর গজব নাজিল হয়। 

হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, রাসুলুল্লাহ (স.) পরিষ্কারভাবে বলেছেন- যে ব্যক্তি হিল্লা বিয়ে করে এবং যার জন্য হিল্লা বিয়ে করানো হয়, তাদের উভয়ের প্রতিই আল্লাহর গজব ও লানত বর্ষিত হয়। এটি কোনো শরিয়তসম্মত সমাধান নয়, বরং একটি পাতানো ও সাজানো খেলা।

আরও পড়ুন: হিল্লা বিয়ে কবিরা গুনাহ, জড়িতদের ওপর অভিশাপ: আজহারী

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, দেশে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তিন তালাক হয়ে যাওয়ার পর কিছু মুরুব্বী বা নামধারী হুজুররা মিলে ‘শর্টকাট’ রাস্তা হিসেবে হিল্লা বিয়ের ব্যবস্থা করেন। লোক ভাড়া করে এনে চুক্তির মাধ্যমে এক বা দুই দিনের জন্য বিয়ে দেওয়া এবং তালাক দেওয়ানো একটি জঘন্য প্রতারণা। ইসলামে এই ধরনের কোনো বিধান নেই। তিন তালাক হয়ে গেলে ওই দম্পতি স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং নতুনভাবে তাদের মধ্যে সরাসরি বিয়ে শুদ্ধ হয় না। 

‘শরিয়তের বিধান হলো- তিন তালাকের পর ওই নারী চাইলে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন এবং এটি হবে একটি স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গ বিয়ে। কোনো চুক্তি ছাড়া ওই নারী যদি নিজের ইচ্ছায় নতুন কাউকে বিয়ে করেন এবং সেই নতুন স্বামী যদি পরবর্তীতে কোনো কারণে মারা যান কিংবা স্বেচ্ছায় তাকে তালাক দেন, তবেই কেবল ইদ্দত পালন শেষে ওই নারী পূর্বের স্বামীর সাথে নতুন করে মোহর দিয়ে বিয়ে করতে পারবেন। এখানে আগে থেকে কোনো শর্ত বা চুক্তি করে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অভিশপ্ত কাজ।’

আরও পড়ুন: ‘নৃশংসতা কমিয়ে আনতে একমাত্র সমাধান শরিয়া আইন’

স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের জেরে রাগের মাথায় একসাথে ‘তিন তালাক’ না দেওয়ার জন্য কঠোর পরামর্শ দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা যেমন মিটারের ওপরে থাকে, শত্রুতাও তেমনি মিটারের ওপরে উঠে যায়। রাগের মাথায় এক তালাক না দিয়ে মানুষ একসাথে তিন হাজার তালাক দিয়ে বসে। তিনি আরও বলেন, দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের উপক্রম হলে শরিয়তের নিয়ম হলো প্রথমে একটি তালাক দেওয়া। এরপর প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় তালাক। তবে তৃতীয় বা শেষ তালাক দেওয়ার আগে দশবার ভাবতে হবে- কারণ এই তালাকের পর আর কোনোভাবেই সেই স্ত্রীর সাথে ঘর করার সুযোগ থাকে না।

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, তালাক হয়ে গেলে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী বিচ্ছেদ সম্পন্ন করে উভয়কে আলাদা জীবন শুরু করার সুযোগ দিতে হবে। কোনো দম্পতিকে পুনরায় মেলাতে গিয়ে হিল্লা বিয়ের মতো নোংরা ও অভিশপ্ত পথ বেছে নেওয়া আল্লাহর বিধানের সাথে উপহাস করার শামিল। তাই তালাক ও বিয়ে সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে আবেগতাড়িত না হয়ে শরিয়তের সঠিক জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।