ধর্ম ডেস্ক
০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই জানতে চান, বারবার ভূমিকম্প হওয়া কি কেয়ামতের কোনো আলামত? এ বিষয়ে কোরআন-হাদিসে কী বলা হয়েছে?
সহিহ হাদিসে ভূমিকম্পের আধিক্যকে কেয়ামতের অন্যতম আলামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে, খুনখারাবি বৃদ্ধি পাবে এবং ধন-সম্পদ এত বেড়ে যাবে যে তা উপচে পড়বে।’ (সহিহ বুখারি: ১০৩৬; ৭১২১)
হাদিসে ব্যবহৃত ‘কাসরাতুয-জালাজিল’ শব্দের অর্থ হলো ভূমিকম্পের আধিক্য বা ঘন ঘন ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়া। এ কারণে আলেমরা একে কেয়ামতের ছোট আলামতগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
পবিত্র কোরআনের ‘সুরা জিলজাল’-এ কেয়ামতের দিনের ভয়াবহ ভূমিকম্পের কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন পৃথিবী তার প্রচণ্ড কম্পনে প্রকম্পিত হবে এবং পৃথিবী তার বোঝা বের করে দেবে।’ (সুরা জিলজাল: ১-২)
তবে এই আয়াত কেয়ামতের দিনের বিশেষ ভূমিকম্প সম্পর্কে। পৃথিবীতে বর্তমানে সংঘটিত ভূমিকম্পকে এর সঙ্গে এক করে দেখা সঠিক নয়।
আরও পড়ুন: সময় সংকোচন: কেয়ামতের নিঃশব্দ আলামত ও আমাদের করণীয়
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এ উম্মতের মধ্যে ভূমিধস, আকৃতি বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের আজাব ঘনিয়ে আসবে।’ এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, তা কখন হবে?’ তিনি বললেন, ‘যখন গায়িকা, বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং মদপান ছড়িয়ে পড়বে।’ (জামে তিরমিজি: ২২১২)
এই হাদিসে কিছু পাপাচার ও নৈতিক অবক্ষয়ের সঙ্গে বিশেষ ধরনের শাস্তির সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকম্পকে এ হাদিসের বাস্তবায়ন বলে নিশ্চিতভাবে দাবি করা যায় না।
কোরআনে কিছু জাতির ওপর ভূমিকম্প আল্লাহর শাস্তি হিসেবে নেমে আসার কথা এসেছে। শোয়াইব (আ.)-এর জাতি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করল। ফলে তারা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।’ (সুরা আরাফ: ৯১)
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি ভূমিকম্পই যে আল্লাহর গজব বা শাস্তি, এমন কথা বলা সঠিক নয়। একই ঘটনা কারও জন্য শাস্তি, কারও জন্য পরীক্ষা এবং কারও জন্য মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: কেয়ামতের যে আলামত মরুভূমিতে প্রকাশ পাবে
প্রাকৃতিক দুর্যোগ একজন মুমিনকে আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে; আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫)
তাই ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনা একজন মুসলমানকে তওবা, ইস্তেগফার, আত্মসমালোচনা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ভূমিকম্পের আধিক্য কেয়ামতের একটি ছোট আলামত হলেও এর অর্থ এই নয় যে কেয়ামত আগামীকাল বা অদূর ভবিষ্যতেই সংঘটিত হবে। কেয়ামতের সঠিক সময় সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহই অবগত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই কেয়ামতের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে।’ (সুরা লুকমান: ৩৪)
কোরআন-হাদিসের আলোকে ঘন ঘন ভূমিকম্প কেয়ামতের ছোট আলামতগুলোর একটি। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকম্পকে কেয়ামতের চূড়ান্ত সংকেত বা নিশ্চিত আল্লাহর গজব বলা যাবে না। একজন মুমিনের জন্য এসব ঘটনা শিক্ষা গ্রহণ, তওবা-ইস্তেগফার করা এবং আখেরাতের প্রস্তুতি জোরদার করার উপলক্ষ।