নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ জুন ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
সন্তানদের শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত রোববার (৩১ মে) রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে সাত দিনের বেশি সময় ধরে পচে-গলে পড়ে থাকা ৭২ বছর বয়সি নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। যার তিন ছেলের একজন যুগ্ম-সচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক, আরেকজন কানাডা প্রবাসী।
উচ্চশিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত তিন সন্তান থাকতে একজন মায়ের শেষ পরিণতি কেন এতটা নিষ্ঠুর হলো, নিজের পোস্টে সেদিকেই আলোকপাত করেছেন আহমাদুল্লাহ।
বৃদ্ধার এলোমেলো কক্ষের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘সাত-আট দিন আগে ময়লার ভাগাড়ের মতো এই ঘরে মরে পচে গেছেন এমন এক বৃদ্ধা, যার এক ছেলে বুয়েট-শিক্ষক, আরেক ছেলে যুগ্ম-সচিব, অন্য ছেলে কানাডা-প্রবাসী।’
আহমাদুল্লিাহ লিখেছেন, ‘এদেশের অধিকাংশ বাবা-মা সন্তানকে কথিত সফলতার যে স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, বৃদ্ধার তিন ছেলেই জাগতিক সাফল্যের সেই স্বর্ণচূড়া স্পর্শ করেছে। কিন্তু মাঝখানে একটা ঈদ গেল, মা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে থাকা সন্তানদের খোঁজ নেওয়ার হয়তো সুযোগটুকুও ঘটেনি। একাকী ঘরের মধ্যে মরে শরীরের মাংস খসে খসে পড়েছে বৃদ্ধার।’
জনপ্রিয় এই ইসলামি স্কলার লিখেছেন, ‘যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময়ও এক আঁজলা পানি নিয়ে মায়ের মাথার কাছে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।’
তিনি লিখেছেন, ‘দীন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যতদিন আমরা শুধু বস্তুবাদ ও বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, ততদিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে।’
পোস্টের শেষ অংশে তার আহ্বান, ‘আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।’
আরও পড়ুন: অভাগা মায়ের উচ্চপদস্থ সন্তানরা কারা?
নিজের পোস্টের নিচে একটি মন্তব্যও দিয়েছেন আহমাদুল্লাহ। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সন্তানকে বিদেশে পাঠানো এখন সামাজিক মর্যাদা এবং অন্যের কাছে গল্প করার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অথচ সন্তান দূরে থাকা প্রত্যেক বাবা-মার জন্যই সীমাহীন কষ্টের বিষয়।’
আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘তারপরও বস্তুবাদ ও বৈষয়িক মর্যাদার হাতছানিতে অধিকাংশ বাবা-মা সন্তানকে বিদেশে পাঠাতে মরিয়া। যার ফলাফল, বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মার নিঃসঙ্গ জীবনযাপন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘অথচ আমরা যদি অল্পে তুষ্ট থাকি, সন্তানকে গর্ব ও মর্যাদার কন্টেন্ট না বানিয়ে নিজের কাছে আগলে রাখি, তবে পরিবারবেষ্টিত আমাদের বার্ধক্যও হবে আনন্দময়।’
প্রসঙ্গত, রোববার (৩১ মে) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে মিরপুর সেকশন-৬ এর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে গিয়ে নুরজাহান বেগম নামে ওই বৃদ্ধার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৭-৮ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
জানা যায়, পুরো বাসায় ওই বৃদ্ধা ও তার মেয়ে থাকতেন। অথচ মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নাকি টের পাননি মেয়েও। এছাড়া দূরে থাকায় মায়ের মৃত্যুর কথা জানতে পারেননি তার ‘সুপ্রতিষ্ঠিত’ তিন ছেলেও। এ ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা।
এএইচ