images

ইসলাম

ঈদের দিনে কী খাওয়া সুন্নত?

ধর্ম ডেস্ক

২৭ মে ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, ইবাদত ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের বিশেষ দিন। এই দিনে কী খাওয়া হবে, কখন খাওয়া হবে — এসব বিষয়েও ইসলামে সুন্দর দিকনির্দেশনা রয়েছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের খাবারের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসৃত কিছু সুন্নত আমল রয়েছে, যা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ।

ঈদুল ফিতরে নামাজের আগে কিছু খাওয়া সুন্নত

ঈদুল ফিতরের দিন নামাজে যাওয়ার আগে কিছু খেয়ে বের হওয়া সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন- ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কয়েকটি খেজুর না খেয়ে বের হতেন না, অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বিজোড় সংখ্যায় খেতেন।’ (সহিহ বুখারি: ৯৫৩)
আলেমরা বলেন, রোজা শেষ হওয়ার আনন্দ প্রকাশ এবং আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের অংশ হিসেবেই ঈদের সকালে কিছু খেয়ে বের হওয়া সুন্নত করা হয়েছে।
খেজুর না থাকলে অন্য মিষ্টান্ন বা হালাল খাবারও খাওয়া যেতে পারে। তবে বিজোড় সংখ্যক খেজুর দিয়ে সুন্নত আদায় করাই উত্তম।

আরও পড়ুন: ঈদের দিন ক্ষমা লাভের মহিমান্বিত ৪ আমল 

ঈদুল আজহায় নামাজের আগে না খাওয়া সুন্নত

ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন। এদিন নামাজের আগে কিছু না খেয়ে থাকা এবং কোরবানির গোশত দিয়ে দিনের প্রথম আহার করা সুন্নত। হাদিসে এসেছে- ‘রাসুলুল্লাহ (স.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না এবং ঈদুল আজহার দিন নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত কিছু খেতেন না। নামাজ থেকে ফিরে তিনি নিজের কোরবানির গোশত থেকে আহার করতেন।’ (জামে তিরমিজি: ৫৪২; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫৬)
আলেমরা বলেন, কোরবানির গোশত দিয়ে প্রথম আহারের মধ্যে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতীকী প্রকাশ রয়েছে।

কোরবানি না থাকলে করণীয়

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় বা যারা কোরবানি দিচ্ছেন না, তাদের ক্ষেত্রেও ঈদুল আজহার দিন নামাজের আগে কিছু না খেয়ে থাকা মোস্তাহাব। তবে নামাজ থেকে ফেরার পর যেকোনো হালাল খাবার খেতে পারেন, এতে কোনো বাধা নেই। (ফতোয়ায়ে শামি: ২/১৭৬)

আরও পড়ুন: কোরবানির দোয়া ও পশু জবাইয়ের নিয়ম

অপচয় ও অতিভোজন থেকে বিরত থাকা

ঈদের দিনে ভালো খাবার খাওয়া বৈধ ও আনন্দের অংশ হলেও ইসলাম অপচয় ও অতিভোজনকে নিরুৎসাহিত করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।’  (সুরা আরাফ: ৩১) তাই ঈদের আনন্দ যেন অপচয়, অহংকার বা গুনাহের কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

মেহমানদারি ও দান-সদকা

ঈদের দিন নিজে খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও গরিব-মিসকিনদের খাওয়ানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। কোরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করে নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করা উত্তম আমল।

খাবার-দাবারসহ প্রত্যেক কাজে সুন্নাহর অনুসরণ, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া এবং আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্যেই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৯৫৩; জামে তিরমিজি: ৫৪২; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫৬; ফতোয়ায়ে শামি: ২/১৭৬; সুরা আরাফ: ৩১