ধর্ম ডেস্ক
২৭ মে ২০২৬, ১১:২৭ এএম
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত দিনগুলো মুমিনের জন্য এক বিশেষ ইবাদতের সময়। এই দিনগুলোতে প্রতিটি ফরজ নামাজের পর একবার ‘তাকবিরে তাশরিক’ পাঠ করা ওয়াজিব। কিন্তু মানুষ হিসেবে আমরা অনেক সময় নামাজের পর জিকির বা মোনাজাতের ব্যস্ততায় এই গুরুত্বপূর্ণ আমলটি ভুলে যাই। এ অবস্থায় শরয়ি সমাধান কী? কাজা করার সুযোগ আছে নাকি তওবা করতে হবে? এ নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর এই তাকবির পাঠ করতে হয়।
এরপর তাকবিরের সময় শেষ হয়ে যায়, তাই মাগরিব ও এশায় আর পড়তে হয় না।
তাকবিরের শব্দগুলো হলো- اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
আরও পড়ুন: তাকবিরে তাশরিক কতক্ষণ না পড়লে তাওবা করতে হয়?
তাকবিরে তাশরিকের বিধান নির্ধারণে ফকিহরা কোরআনের সাধারণ নির্দেশনা, বিভিন্ন হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং উম্মাহর ধারাবাহিক আমলের ওপর নির্ভর করেছেন। বিশেষভাবে হজরত আলী (রা.) ও হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা জিলহজের নির্ধারিত দিনগুলোতে ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়তেন। এই ধারাবাহিক আমল ও ফকিহদের ইজতিহাদের ভিত্তিতে হানাফি মাজহাবে তাকবিরে তাশরিককে ওয়াজিব বলা হয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৫৬৫১, ৫৬৭৩; ফাতহুল কাদির: ২/৫০; আদ্দুররুল মুখতার: ২/১৭৭)
তাকবিরে তাশরিক পড়তে ভুলে গেলে শরিয়তে দুটি ভিন্ন অবস্থা রয়েছে-
প্রথম অবস্থা: সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়লে
সালাম ফেরানোর পর যদি কেউ তাকবির পড়তে ভুলে যান, তবে তিনি এখনো নামাজের স্থানেই অবস্থান করেন এবং নামাজ-পরিপন্থী কোনো কাজ না করে থাকেন, তাহলে মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকবির পড়ে নেবেন। এতে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৫২)
দ্বিতীয় অবস্থা: আদায়ের সময় শেষ হয়ে গেলে
সালাম ফেরানোর পর নিচের যেকোনো একটি কাজ হয়ে গেলে তাকবির আদায়ের সুযোগ আর থাকে না-
এ অবস্থায় পরে ওই তাকবির আর আদায় করা যাবে না। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/১৬৫; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৫২)
আরও পড়ুন: তাকবিরে তাশরিক একবার নাকি তিনবার পড়া ওয়াজিব?
তাকবিরে তাশরিক একটি সময়ভিত্তিক ইবাদত, যার কোনো কাজা নেই। যদি সময় পার হয়ে যায় (অর্থাৎ কথা বলা বা মসজিদ থেকে বের হওয়া হয়ে যায়), তাহলে ওই তাকবির আর পড়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার গুনাহ থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার: ২/১৭৯; আল-মাবসুত সারাখসি: ২/৪৫)
মোটকথা, তাকবিরে তাশরিক ইসলামের এক অনন্য নিদর্শন। প্রতিটি ফরজ নামাজের পর এই মহিমান্বিত ধ্বনি উচ্চারণ করা মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুলে আতঙ্কিত না হয়ে শররিয়তের এই ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান অনুসরণ করাই হলো প্রকৃত আনুগত্য।
মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৫৬৫১, ৫৬৭৩; আদ্দুররুল মুখতার: ২/১৭৭-১৭৯; আল-বাহরুর রায়েক: ২/১৬৫; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৫২; আল-মাবসুত সারাখসি: ২/৪৫; ফাতহুল কাদির: ২/৫০