images

ইসলাম

নফল রোজা ইচ্ছাকৃত ভাঙলে কী হয়?

ধর্ম ডেস্ক

২৭ মে ২০২৬, ১০:৫১ এএম

রমজানের ফরজ রোজার পাশাপাশি নফল রোজারও ইসলামে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। শুরু করা নফল রোজা যথাসম্ভব পূর্ণ করাই মুমিনের কর্তব্য। তবে কখনো বিশেষ কারণে তা ভাঙতে হলে শরিয়তের বিধান কী, তা অনেকেই জানেন না।

শুরু করা নফল ইবাদত নষ্ট করা অনুচিত

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের আমলগুলো নষ্ট করো না।’ (সুরা মুহাম্মদ: ৩৩)
এই আয়াত থেকে আলেমরা ইঙ্গিত গ্রহণ করেছেন যে, শুরু করা নেক আমল বিনা কারণে পরিত্যাগ করা উচিত নয়।

নফল রোজা ভাঙলে কাজা ওয়াজিব হয়

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, নফল রোজা শুরু করার পর ভেঙে ফেললে, ইচ্ছাকৃত হোক বা ওজরের কারণে হোক, পরে একটি রোজা কাজা করা ওয়াজিব। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘আমি এবং হাফসা (রা.) একদিন নফল রোজা রেখেছিলাম। পরে সামনে খাবার এলে আমরা তা খেয়ে ফেলি। রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, ‘এর পরিবর্তে অন্য একদিন রোজা রেখে দাও।’ (জামে তিরমিজি: ৭৩৫; মেশকাত: ২০৮০)
এই হাদিসের ভিত্তিতেই হানাফি ফকিহরা কাজার বিধান গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: নফল রোজার উত্তম সময়

মেহমানদারির কারণে রোজা ভাঙা যাবে?

মেহমান আসার অজুহাতে ঢালাওভাবে নফল রোজা ভাঙা ঠিক নয়। তবে মেহমান আসার পর গৃহকর্তা তার সঙ্গে না খেলে যদি মেহমান কষ্ট পান বা অসন্তুষ্ট হন, তখন তার মন রক্ষার জন্য রোজা ভাঙার অবকাশ আছে। তবে সেই রোজা পরে কাজা করতে হবে। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯৩)

কাফফারা লাগবে কি?

না। নফল রোজা ভাঙলে শুধু একটি কাজা রোজা আদায় করতে হয়, কোনো কাফফারা দিতে হয় না। টানা ৬০টি রোজার কাফফারা কেবল রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙলেই প্রযোজ্য। (আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪২৮)

আরও পড়ুন: নফল রোজাদারকে ইফতার করালে কতটা সওয়াব হয় জানেন?

ভুলে কিছু খেলে রোজা ভাঙবে?

রোজার কথা ভুলে কিছু খেয়ে বা পান করে ফেললে রোজা নষ্ট হবে না। তবে মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এরপর ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খেলে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে একটি রোজা আদায় করতে হবে

নফল রোজা একটি মূল্যবান আমল। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া তা ভাঙা অনুচিত। আর ভেঙে গেলে পরবর্তীতে একটি কাজা রোজা রাখাই যথেষ্ট- এটি ইসলামের সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ বিধান।

তথ্যসূত্র: সুরা মুহাম্মদ: ৩৩; জামে তিরমিজি: ৭৩৫ ; মেশকাত: ২০৮০; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪২৮; আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯৩