ধর্ম ডেস্ক
২৪ মে ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
আবাসিক মাদরাসাসমূহে যৌন নিপীড়ন ও অনাচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত কমিশন গঠনসহ বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ। বর্তমানে হজের সফরে সৌদি আরবে অবস্থানরত এই আলেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ও আগের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো পুনরায় তুলে ধরেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানাবিধ অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের উপায় নেই। আমরা যদি এ বিষয়ে নীরব থাকি বা উপেক্ষা করি, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং সমস্যা আরও বাড়বে।’ তিনি জানান, ২০১৯ সালেও তিনি এ বিষয়ে একটি লিখিত সুপারিশমালা দিয়েছিলেন।
মাদরাসার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁর আগের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাদরাসার প্রতিটি কক্ষ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, যথাযথ শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা ও নিয়মতান্ত্রিক ছুটি, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন আলাদা রাখা, শিক্ষার্থীদের ঢালাও বিছানার পরিবর্তে পৃথক খাটের ব্যবস্থা এবং মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক ও স্টাফ নিয়োগ না দেওয়া।
আরও পড়ুন: ‘নৃশংসতা কমিয়ে আনতে একমাত্র সমাধান শরিয়া আইন’
বর্তমান প্রেক্ষাপটে শায়খ আহমাদুল্লাহ একটি নতুন প্রস্তাবও দেন। তিনি বলেন, হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া-এর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা হোক। যেখানেই কোনো অভিযোগ পাওয়া যাবে, এই কমিশন সেখানে সরেজমিন তদন্ত করবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো মাদরাসায় চাকরি নিতে না পারেন। আবার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটিও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
ঢালাও অভিযোগের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মিডিয়া সত্যের সঙ্গে মিথ্যার রং মাখায় অথবা কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নিরপরাধ আলেমকে ফাঁসানো হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফেনীর সাম্প্রতিক এক কিশোরীর ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ডিএনএ পরীক্ষায় স্থানীয় মসজিদের এক ইমাম নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
স্ট্যাটাসের শেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, হজের সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি এই সংকট দূর করতে এবং মাদরাসার প্রতি জনসাধারণের আস্থা অটুট রাখতে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা পেশ করবেন। মাদরাসা ব্যবস্থাকে “দ্বীনের দুর্গ” হিসেবে টিকিয়ে রাখতে তিনি সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।