ধর্ম ডেস্ক
২১ মে ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
জিলহজ মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত, ত্যাগ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মৌসুম। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেকে তা দিতে পারেন না। তবে আল্লাহর রহমত থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না- ইসলাম এমনটি বলে না। বরং যারা কোরবানি দিতে পারছেন না, তাদের জন্য বিশেষ আমল ও সওয়াবের সুযোগ রেখেছে শরিয়ত।
যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য একটি বিশেষ আমলের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) এক ব্যক্তিকে বললেন- তুমি ঈদের দিন তোমার চুল, নখ ও গোঁফ ছাঁটবে এবং নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে- আল্লাহর কাছে এটিই তোমার কোরবানির মতো হবে।
অর্থাৎ জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে ১০ই জিলহজ ঈদের নামাজের আগ পর্যন্ত নখ, চুল ও গোঁফ না কেটে রাখুন এবং ঈদের নামাজের পর কাটুন। এই আমল সম্পর্কে একাধিক হাদিসবেত্তা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যদিও হাদিসটির সনদ নিয়ে কিছু আলোচনা আছে। সূত্র: সুনানে আবু দাউদ: ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ি: ৪৩৬৫
আরও পড়ুন: কোরবানির ৩ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো জানুন
অসচ্ছল উম্মতের জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হলো স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানি করে গেছেন। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) জবাই করার সময় বললেন- ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ মহান। এই কোরবানি আমার ও আমার উম্মাতের যারা কোরবানি করতে অক্ষম তাদের পক্ষ থেকে।’ সূত্র: সুনানে আবু দাউদ: ২৮১০; জামে তিরমিজি: ১৫২১
কোরবানি দিতে না পারলেও জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমল অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মূল্যবান। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, এই দিনগুলোতে নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই- এমনকি জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে জান-মাল দিয়ে বেরিয়েছে এবং কিছুই নিয়ে ফেরেনি। (সহিহ বুখারি: ৯৬৯)
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার) পাঠ করা উচিত। এ ছাড়া ৯ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।
আরও পড়ুন: মৃতব্যক্তির নামে কোরবানির ৩টি শরিয়তসম্মত পদ্ধতি
কোরবানি না দিতে পারলেও ৯ই জিলহজ একটি রোজা রাখার ফজিলত অতুলনীয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ সূত্র: সহিহ মুসলিম: ১১৬২
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (সহিহ বুখারি: ১) কোনো মুমিনের মনে যদি আন্তরিক ইচ্ছা থাকে যে সামর্থ্য থাকলে সে অবশ্যই কোরবানি দিত, তবে এই সৎ নিয়তের কারণেও আল্লাহ তাকে সওয়াব দিতে পারেন।
না। যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তার জন্য ঋণ করে কোরবানি দেওয়া আবশ্যক নয়। আল্লাহ তাআলা কারও ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব আরোপ করেন না। উপরে বর্ণিত আমলগুলো পালনই তার জন্য যথেষ্ট।
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ ‘আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছে না, বরং তোমাদের তাকওয়াই তাঁর কাছে পৌঁছে।’ (সুরা হজ: ৩৭) আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে পশু জবাই করতে না পারলেও জিকির, রোজা ও সুন্নাহসম্মত আমলের মাধ্যমে এই মোবারক মাসের পূর্ণ সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবার আমল কবুল করুন।
তথ্যসূত্র: সুরা হজ: ৩৭; সহিহ বুখারি: ১, ৯৬৯; সহিহ মুসলিম: ১১৬২; আবু দাউদ: ২৭৮৯, ২৮১০; তিরমিজি: ১৫২১; নাসায়ি: ৪৩৬৫