ধর্ম ডেস্ক
১১ মে ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও সরকারি কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাটস্থ এদ্বারা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন লিখিত বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন।
মাওলানা মুশতাক আহমদ দাবি করেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তার সুফল পাওয়া যায়নি। কাঁচা লবণ বিতরণ করা হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায়ও চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো দৃশ্যমান রূপরেখা নেই এবং সরকার এখনো সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি।
আরও পড়ুন: কোরবানির আগেই সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সংকট সমাধানের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোরবানির পশুর চামড়া কওমি মাদরাসাগুলোর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল। কিন্তু গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চামড়ার বাজারে ব্যাপক দরপতনের ফলে এখন তা সংগ্রহ করাই মাদরাসাগুলোর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চামড়া সংগ্রহ ও পরিবহন খরচও বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছে।
পরিষদ নেতাদের দাবি, দেশে কোরবানির চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশই কওমি মাদরাসাগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। অথচ দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দরপতনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পটি এখন গভীর সংকটে রয়েছে। ফলে এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভবিষ্যতে সরকার যদি কার্যকর উদ্যোগ নেয় এবং চামড়ার বাজার পুনরায় স্বাভাবিক হয়, তবেই চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী ও মাওলানা মঞ্জুর আহমদসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীলরা।