images

ইসলাম

কাবার ভেতরে কী আছে

ধর্ম ডেস্ক

১১ মে ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম প্রতিদিন যে ঘরটির দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন, সেই পবিত্র কাবার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। মক্কার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই স্থাপনার দরজা অত্যন্ত সীমিত সময়ে খোলা হয়; সাধারণত রমজানের আগে বা হজ মৌসুমের পর আনুষ্ঠানিক ধৌতকরণের সময় এটি খোলা হয়। বিভিন্ন সময় প্রবেশকারীদের বর্ণনা, প্রকাশিত আলোকচিত্র এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে কাবার অভ্যন্তরের একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।

কাঠের স্তম্ভ

ঐতিহাসিক বর্ণনা ও আধুনিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কাবার ভেতরে তিনটি শক্ত কাঠের স্তম্ভ রয়েছে, যা ছাদকে ধারণ করে। এগুলো কাবার মাঝ বরাবর সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত এবং উন্নতমানের টিক কাঠ দিয়ে তৈরি বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। স্তম্ভগুলোর ওপরের অংশে ধাতব সংযোগ রিং রয়েছে।

kaaba-pillar

মেঝে ও দেয়াল

কাবার অভ্যন্তরের মেঝে সাদা ও ধূসর মার্বেল পাথর দিয়ে আবৃত। দেয়ালের নিচের অংশও একই ধরনের মার্বেলে মোড়ানো। দেয়ালের ওপরের অংশে পবিত্র কোরআনের আয়াত ও ক্যালিগ্রাফি-সম্বলিত প্যানেল রয়েছে। ছাদ কাঠের বিম দিয়ে নির্মিত এবং ভেতরের উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিটার।

আরও পড়ুন: তীব্র গরমেও হারামাইনের চত্বর শীতল কেন?

ঐতিহাসিক ফলক

কাবার ভেতরের দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি মার্বেল ফলক রয়েছে। এসব ফলকে বিভিন্ন যুগে কাবার সংস্কারকাজ এবং তা সম্পাদনকারী খলিফা বা বাদশাহদের নাম খোদাই করা আছে বলে জানা যায়। বড় সংস্কারের পর নতুন ফলক সংযোজনের প্রচলনও ছিল।

ছাদে ওঠার প্রবেশপথ

কাবার ভেতরের এক পাশে একটি বিশেষ প্রবেশপথ রয়েছে, যা ছাদে ওঠার সিঁড়িঘরের সঙ্গে সংযুক্ত। গিলাফ পরিবর্তন বা ছাদের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে এই পথটি ব্যবহার করা হয়।

অভ্যন্তরে নামাজ

ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, কাবার ভেতরে প্রবেশ করলে যেকোনো দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করা যায়। বিভিন্ন হাদিসভিত্তিক বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) কাবার ভেতরে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করেছিলেন।

আরও পড়ুন: হজে দোয়া কবুলের স্থানগুলো

সুগন্ধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

ধৌতকরণের সময় জমজমের পানি ও গোলাপ জল দিয়ে কাবার মেঝে ও দেয়াল পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি উন্নত মানের সুরভি ও উদ ব্যবহার করা হয় বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বর্ণনায় জানা যায়। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।

যা নেই: ভুল ধারণা নিরসন

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) কাবার ভেতরে থাকা সকল মূর্তি অপসারণ করেন। বর্তমানে কাবার অভ্যন্তরে কোনো মূর্তি, ছবি বা কবর নেই। কাবার ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত সরল, সংযত এবং পবিত্রভাবে সংরক্ষিত।

ধৌতকরণ প্রক্রিয়া

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদ ও নবী মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্সির (জিপিএইচ) তথ্য অনুযায়ী, বছরে সাধারণত এক বা দুইবার কাবার ভেতর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করা হয়। এতে সৌদি বাদশাহ বা তাঁর প্রতিনিধি এবং নির্ধারিত অতিথিরা অংশ নেন। জমজমের পানি ও গোলাপ জল দিয়ে ভেতরের অংশ ধৌত করা হয়।

তথ্যসূত্র: এসপিএ; জিপিএইচ এবং ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল