images

ইসলাম

ভুলে উল্টোদিক থেকে সাঈ শুরু করলে করণীয় কী

ধর্ম ডেস্ক

০৭ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

হজ ও ওমরার গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল হলো সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাতবার যাতায়াত করা, যাকে শরীয়তের পরিভাষায় ‘সাঈ’ বলা হয়। সাঈর নির্ধারিত সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হলো সাফা থেকে শুরু করে মারওয়া পর্যন্ত যাওয়া এবং পুনরায় মারওয়া থেকে সাফায় ফিরে আসা। তবে কখনো কখনো ভুলে বা অজ্ঞতাবশত কেউ মারওয়া থেকে সাঈ শুরু করে ফেলেন। এ অবস্থায় শরীয়তের দৃষ্টিতে করণীয় নিচে দালিলিকভাবে উপস্থাপন করা হলো।

সাঈর সঠিক পদ্ধতি ও দলিল

সাঈ শুরু করতে হবে সাফা পাহাড় থেকে।

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম।’ (সুরা বাকারা: ১৫৮)

রাসুলুল্লাহ (স.) সাঈ শুরু করার সময় ইরশাদ করেন- ‘আমি তা দিয়েই শুরু করছি যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১২১৮)

ফুকাহায়ে কেরাম এ দলিলের ভিত্তিতে বলেছেন যে, সাঈর সূচনা সাফা থেকেই হওয়া সুন্নাহসম্মত ও শরীয়ত নির্ধারিত পদ্ধতি।

মারওয়া থেকে শুরু করলে শরয়ি বিধান

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সাঈ একটি ওয়াজিব আমল, এবং এতে ধারাবাহিকতা (তরতীব) রক্ষা করা জরুরি।

অতএব কেউ যদি মারওয়া থেকে সাঈ শুরু করেন, তবে তা শরীয়তসম্মত সূচনা হিসেবে গণ্য হবে না; অর্থাৎ ওই সূচনা ধর্তব্য নয়।

ইমাম নববি (রহ.) বলেন- ‘সাঈ অবশ্যই সাফা থেকে শুরু করা শর্ত। কেউ যদি মারওয়া থেকে শুরু করে, তবে তা সহিহ হবে না এবং তাকে সাফা থেকে পুনরায় শুরু করতে হবে।’ (আল-মাজমু: ৮/৭৭)

হানাফি ফিকহে বর্ণিত হয়েছে- ভুল সূচনা গণনায় ধর্তব্য নয় এবং সঠিক স্থান থেকে পুনরায় শুরু করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/১৩৪; রদ্দুল মুহতার: ২/৫৫০)

আরও পড়ুন: হজে সাফা-মারওয়া সায়ি করবেন কেন? 

ভুল বুঝে গেলে করণীয়

যদি কেউ সাঈ চলাকালীন বুঝতে পারেন যে তিনি মারওয়া থেকে শুরু করেছেন, তাহলে-

তিনি পূর্ববর্তী অংশ (মারওয়া → সাফা) গণনায় ধরবেন না।
বরং সাফা থেকে নতুনভাবে সাঈ শুরু করবেন এবং ধারাবাহিকভাবে সাত চক্কর পূর্ণ করবেন।

এ অবস্থায় কোনো দম বা কাফফারা ওয়াজিব হবে না, কারণ এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল।

ভুলক্রমে সাত চক্কর সম্পন্ন হয়ে গেলে

যদি কেউ ভুলক্রমে মারওয়া থেকে শুরু করে সাত চক্কর সম্পন্ন করে ফেলেন, তবে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তাঁর সাঈ নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদায় হয়নি।

এ অবস্থায় ফুকাহায়ে কেরামের মূল নির্দেশনা হলো-

তিনি পুনরায় সাফা থেকে সাঈ আদায় করবেন, কারণ এটি ইহতিয়াত (সতর্কতা) ও অধিক নিরাপদ পন্থা।

ইমাম কাসানি (রহ.) বলেন- ‘যদি সাঈর ধারাবাহিকতা লঙ্ঘিত হয়, তবে পুনরায় আদায় করাই অধিক সতর্কতা।’ (বাদায়েউস সানায়ে: ২/১৩৪)

আরও পড়ুন: পিরিয়ড অবস্থায় সাঈ করা জায়েজ কি?

মক্কা ত্যাগের পর স্মরণ হলে

যদি কেউ মক্কা ত্যাগ করার পর ভুল বুঝতে পারেন, তাহলে-

সম্ভব হলে হারামের সীমানায় ফিরে এসে সাঈ পুনরায় আদায় করবেন।
আর তা সম্ভব না হলে, হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ওয়াজিব ত্রুটি থেকে গেলে ‘দম’ (পশু জবাই) ওয়াজিব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এটি চূড়ান্ত বিধান নয়; বরং নির্ভর করে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করেছেন কি না বা সংশোধনের সুযোগ ছিল কি না—এর ওপর। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক। (রদ্দুল মুহতার: ২/৫৫০; হিন্দিয়া: ১/২৪৬)

সারসংক্ষেপ

সাঈ অবশ্যই সাফা থেকে শুরু করতে হবে। মারওয়া থেকে শুরু করলে তা শরিয়তসম্মত গণনায় ধর্তব্য নয় এবং সঠিক স্থান থেকে পুনরায় শুরু করা ওয়াজিব। ভুল বুঝে গেলে মূল করণীয় হলো- তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করে সঠিক নিয়মে সাঈ সম্পন্ন করা।

সাঈ একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত, যা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী আদায় করা আবশ্যক। ভুলে উল্টো দিক থেকে শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে শরীয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশোধন করাই সঠিক পন্থা। মূলনীতি হলো- সাফা থেকে শুরু করে সঠিকভাবে সাত চক্কর পূর্ণ করা, আর এটিই ইবাদতের বিশুদ্ধতা ও কবুলিয়তের ভিত্তি।