ধর্ম ডেস্ক
০৭ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
হজ ও ওমরা পালনের সময় দীর্ঘ পথ হাঁটা এবং কাবার চত্বরে (মাতাফ) তওয়াফ ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করার সময় অনেক হাজি পায়ের ব্যথায় ভোগেন। বিশেষ করে বয়স্ক বা অসুস্থদের জন্য খালি পায়ে হাঁটা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহারের বিধান নিয়ে শরিয়তের দিকনির্দেশনা এবং মসজিদের আদব রক্ষা- উভয় বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।
আদিকাল থেকেই মাতাফ বা তওয়াফের স্থান মসজিদে হারামের মূল অংশ হিসেবে গণ্য। বর্তমানে সাফা-মারওয়া পাহাড়ও মসজিদুল হারামের সীমানার ভেতরে অবস্থিত। বর্তমান সময়ে মসজিদের আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে সাধারণভাবে জুতা খুলে প্রবেশ করাই প্রচলিত এবং অধিক উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শরিয়তের মূল বিধান এবং বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আলেমদের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।
শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, জুতা যদি নাপাকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র থাকে, তা পরে ইবাদত করা মূলত জায়েজ। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে জুতা পরে নামাজ পড়েছেন বলে সহিহ হাদিসে প্রমাণিত। (সহিহ বুখারি: ৩৮৬) অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা ইহুদিদের বিপরীত কর। তারা জুতা এবং মোজা পরে সালাত আদায় করে না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৬৫২)
তওয়াফের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘বায়তুল্লাহর তওয়াফ হলো নামাজের মতো; তবে তওয়াফে তোমরা কথা বলতে পারো।’ (তিরমিজি: ৯৬০) এসব দলিল থেকে আলেমরা বলেছেন, জুতা পবিত্র থাকলে তা পরে তওয়াফ করাও মূলত জায়েজ।
আরও পড়ুন: জুতা পরে নামাজ পড়া যাবে কি?
যদিও জুতা পবিত্র থাকলে তা পরে তওয়াফ বা সাঈ করা মূলত জায়েজ, তবে বিনা প্রয়োজনে মসজিদের ভেতরে জুতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই অধিক উপযুক্ত। ফিকহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাব রদ্দুল মুহতারে বলা হয়েছে- ‘সাধারণ অবস্থায় মসজিদে জুতা ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে যদি কারো পায়ে ‘ওজর’ (যেমন: ক্ষত, রোগ বা তীব্র ব্যথা) থাকে এবং মসজিদে জুতা ছাড়া চলাচল করা অসম্ভব বা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তার জন্য পবিত্র জুতা পরে তওয়াফ বা সাঈ করা জায়েজ।’ (রদ্দুল মুহতার: ১/৬৫৭)
যাদের পায়ে সমস্যা আছে, তাদের জন্য সরাসরি জুতা ব্যবহারের চেয়ে মোজা (বিশেষত চামড়ার মোজা বা খুফ অথবা মোটা কাপড়ের তওয়াফ মোজা) পরা অধিকতর উত্তম। এটি একদিকে যেমন পায়ের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে মসজিদের মেঝে ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করে এবং মসজিদের সাধারণ আদবের সাথেও সংগতিপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ৭ অবস্থায় শরিয়তের বিধান পালনে ইসলাম জোর করে না
বর্তমানে মসজিদুল হারামের মেঝে অত্যন্ত দামি মার্বেল পাথর দিয়ে ঢাকা এবং সার্বক্ষণিক পরিষ্কার রাখা হয়। এ কারণে-
ব্যবস্থাপনা: হারামাইন কর্তৃপক্ষ সাধারণত ধুলোবালিযুক্ত বাইরের জুতা পরে মূল মাতাফ বা সাঈর জায়গায় প্রবেশের অনুমতি দেয় না।
আদব ও পরিচ্ছন্নতা: বিনা প্রয়োজনে জুতা ব্যবহার করা মসজিদের আদব ও পরিচ্ছন্নতার পরিপন্থী মনে করা হয়। তাই বাইরের জুতা ব্যাগে রেখে ভেতরে ব্যবহারের জন্য আলাদা পরিষ্কার মোজা বা জুতা রাখা নিরাপদ।
ইসলামে ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে সহজতা যেমন রয়েছে, তেমনি পবিত্র স্থানের পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বও অপরিসীম। তাই কোনো হাজি অসুস্থতা বা পায়ের ব্যথার কারণে পবিত্র জুতা বা মোজা পরে তওয়াফ ও সাঈ করলে শরিয়ত অনুযায়ী কোনো সমস্যা নেই। তবে সুস্থ ব্যক্তির জন্য সাধারণভাবে খালি পায়ে তওয়াফ ও সাঈ করাকে উত্তম ও আদবসঙ্গত মনে করা হয়। মসজিদের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার স্বার্থে সরাসরি বাইরের জুতা পরিহার করে পরিষ্কার ‘তওয়াফ মোজা’ ব্যবহার করাই অধিক উপযুক্ত সমাধান।