ধর্ম ডেস্ক
০১ মে ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
কাবা শরিফ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সাঈ হজ ও ওমরার অন্যতম প্রধান রুকন। হজের মৌসুমে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। এ অবস্থায় ইসলামি শরিয়ত নারীদের পর্দা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ইবাদতের মূল কাঠামো একই হলেও নারীদের জন্য পালনপদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা ও সহজতা রয়েছে।
নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা: নারীদের জন্য তাওয়াফের মূলনীতি হলো কাবার খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা না করে পুরুষদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর আমল থেকে জানা যায়, ‘তিনি পুরুষদের থেকে আলাদা হয়ে (দূর দিয়ে) তাওয়াফ করতেন, তাদের সাথে মিশতেন না।’ (সহিহ বুখারি: ১৬১৮)
মাতাফের প্রান্ত দিয়ে চলা: ফুকাহায়ে কেরামের মতে, মাতাফের শেষ প্রান্ত দিয়ে তাওয়াফ করা নারীদের জন্য উত্তম। এতে কাবা থেকে দূরত্ব বাড়লেও পর্দা রক্ষা সহজ হয় এবং শারীরিক সংস্পর্শের আশঙ্কা কমে।

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা সুন্নত, কিন্তু পর্দা রক্ষা করা ফরজ। তাই ভিড় ঠেলে সামনে যাওয়ার অনুমতি নেই। শরয়ি বিধান হলো- ভিড় থাকলে চুম্বন করার চেষ্টা না করা। দূর থেকে হাত তুলে ইশারা (ইস্তিলাম- দূর থেকে হাত তোলা) করা। (ফতোয়ায়ে শামি: ২/৪৯৫)
আরও পড়ুন: হজে সাফা-মারওয়া সায়ি করবেন কেন?
দৌড়ানো নেই: পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে দ্রুত চলা (রমল) সুন্নত, কিন্তু নারীদের জন্য তা প্রযোজ্য নয়। হজরত ইবনে উমর (রা.) বলেন- ‘নারীদের জন্য তাওয়াফে রমল নেই এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো নেই।’ (সুনানে বায়হাকি: ৫/৭৯) তাই নারীরা পুরোটা পথ স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন।
কম ভিড়ের সময়টি বেছে নেওয়া নারীদের জন্য মোস্তাহাব। সাধারণত রাতে মাতাফ তুলনামূলক ফাঁকা থাকে। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) ভিড় এড়াতে রাতে তাওয়াফ করতেন। (সহিহ বুখারি: ১৬১৮)

নারীদের জন্য মাহরামের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন; ভিড় ঠেলে সামনে নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
অসুস্থ, বৃদ্ধা বা দুর্বল নারীরা বাহনে (হুইলচেয়ার) চড়ে তাওয়াফ ও সাঈ করতে পারেন। রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মে সালামাহ (রা.)-কে নির্দেশ দেন, ‘মানুষের পেছনে থেকে সওয়ারিতে তাওয়াফ করো।’ (সহিহ বুখারি: ১৬৩৩)
আরও পড়ুন: নতুন হজযাত্রীরা যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
নারীদের জন্য হজের প্রতিটি ইবাদতে পর্দা, লজ্জাশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা অপরিহার্য। কাবার নৈকট্যের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই ইবাদতের মূল লক্ষ্য। শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিড় এড়িয়ে, শালীনতা বজায় রেখে তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করাই নারীদের জন্য উত্তম ও অধিক সওয়াবের কাজ।
আল্লাহ তাআলা হজে গমনকারী সব নারীকে যথাযথভাবে ইবাদত সম্পন্ন করার তাওফিক দিন এবং সবার হজকে ‘হজে মাবরুর’ হিসেবে কবুল করুন। আমিন।