images

ইসলাম

জবাইয়ের আগে পশুর পা ভেঙে গেলে কোরবানি শুদ্ধ হবে?

ধর্ম ডেস্ক

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

কোরবানি একটি মহান ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করা হয়। এই ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য পশুর শারীরিক সুস্থতা ও নিখুঁত হওয়া শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তবে অনেক সময় পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাইয়ের আগমুহূর্ত পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে পশুর পা ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে কোরবানি সহিহ হবে কি না, তা দালিলিকভবে বোঝা প্রয়োজন।

ল্যাংড়া পশুর সাধারণ বিধান

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, যে পশু স্পষ্টভাবে ল্যাংড়া অর্থাৎ যে পশুটি খুঁড়িয়ে চলার কারণে নিজ থেকে জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না, তেমন পশু দিয়ে কোরবানি সহিহ হবে না। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়- স্পষ্ট অন্ধ, স্পষ্ট অসুস্থ, স্পষ্ট ল্যাংড়া এবং এমন হাড্ডিসার পশু যার হাড়ে মজ্জা নেই।’ (তিরমিজি: ১৪৯৭)

হাট থেকে আনার পথে পা ভেঙে গেলে

কেনার পর বা যাতায়াতের পথে কোনো দুর্ঘটনার কারণে পশুর পা ভেঙে গেলে ফকিহগণ এর দুটি অবস্থা বর্ণনা করেছেন-
অবস্থা-১ (মাটিতে পা লাগলে): পশুটি যদি তিন পায়ে ভর দিলেও চতুর্থ পাটি (ভাঙা পা) মাটিতে লাগিয়ে হাঁটতে পারে (যদিও পূর্ণ ভর দিয়ে হাঁটতে পারে না), তাহলে ওই পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ বা শুদ্ধ হবে।
অবস্থা-২ (তিন পায়ে চললে): যদি ভাঙা পাটি একেবারেই মাটিতে ফেলতে না পারে এবং পশুটি মূলত তিন পায়ের ওপর ভর দিয়ে চলে, তবে উক্ত পশু দিয়ে কোরবানি করা শুদ্ধ হবে না। এক্ষেত্রে সামর্থ্যবান বা ধনী (সাহেবে নেসাব) ব্যক্তির জন্য ওই পশুর পরিবর্তে একটি সুস্থ পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। (তবে কোরবানিদাতা গরিব হলে তিনি ওই পশুটিই কোরবানি করতে পারবেন) (বাহরুর রায়েক: ৮/১৭৭; দুররুল মুখতার: ৬/৩২৫; রদ্দুল মুহতার: ৯/৪৬৮)

আরও পড়ুন: কোরবানির পশু কেনার আগে যাচাই করুন এই ৭টি বিষয়

জবাইয়ের সময় দুর্ঘটনায় পা ভাঙলে

যদি পশুটি সুস্থ অবস্থায় জবাইয়ের স্থানে আনা হয় এবং পশুকে মাটিতে শোয়ানোর সময় ধস্তাধস্তির কারণে বা রশি দিয়ে বাঁধার সময় পা ভেঙে যায়, তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। ওই অবস্থায় ওই পশু দিয়েই কোরবানি করা সম্পূর্ণ বৈধ ও সহিহ। ফিকহবিদদের মতে, এটি জবেহ প্রক্রিয়ারই একটি অংশ এবং অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা, যা ক্ষমাযোগ্য। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৯২৭; তাতারখানিয়া: ১৭/৪২৬; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/৭৫)

পশুর প্রতি দয়া ও ইসলামের শিক্ষা

পশুর পা ভেঙে যাক বা না যাক, শরিয়ত পশুর প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের উপর ইহসান অত্যাবশ্যক করেছেন।...যখন জবাই করবে তখন দয়ার সঙ্গে করবে। তোমাদের সবাই যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবাইকৃত জন্তুকে কষ্টে না ফেলে।’ (সহিহ মুসলিম: ১৯৫৫)
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের কেউ জবাই করার সময় যেন তা দ্রুত সম্পন্ন করে (যাতে পশু অধিক পরিমাণে কষ্ট না পায়)।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১৭২) 

ইসলামি শরিয়ত পশুর সুস্থতার গুরুত্ব দিলেও মানুষের সাধ্যাতীত কোনো দুর্ঘটনাকে সহজভাবে বিবেচনা করে। কোরবানি যেহেতু মনের নিয়ত ও তাকওয়ার ওপর নির্ভরশীল, তাই সাধ্যমতো সুস্থ পশু নির্বাচন করা এবং জবেহ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করাই মুমিনের কর্তব্য।

সূত্র: মুসলিম; তিরমিজি; ইবনে মাজাহ; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া; রদ্দুল মুহতার; বাদায়েউস সানায়ে; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া; ফতোয়া কাসিমিয়া