ধর্ম ডেস্ক
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
মানুষ প্রতিনিয়ত ভুল করে এবং গুনাহে লিপ্ত হয়। কিন্তু পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য সহজ ও বরকতময় বহু পথ রেখেছেন। সামান্য সময় ব্যয় করে সহজ জিকিরের মাধ্যমে একজন মানুষ অর্জন করতে পারেন বিপুল সওয়াব এবং পেতে পারেন গুনাহ থেকে মুক্তি।
হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) একদা সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করতে অপারগ হয়ে যাবে? তখন সেখানে বসে থাকা একজন প্রশ্ন করল, কেউ কিভাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করবে? তিনি বললেন, সে একশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করলে তার জন্যে এক হাজার পুণ্য লিখিত হবে অথবা তার (আমলনামা) হতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৮)
আরও পড়ুন: জবান সিক্ত থাকুক মহামূল্যবান ৬ জিকিরে
অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো অসংখ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪০৫)
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাদিসে বর্ণিত এই ক্ষমার বিষয়টি সাধারণত ‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে আন্তরিকভাবে তাওবা করা এবং যদি তা মানুষের অধিকারের (হক্কুল ইবাদ) সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে তা আদায় করা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির থেকে ক্ষমা নেওয়া অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: যে দোয়ায় ১০ গোলাম আজাদ করার সমান সওয়াব
ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইবাদত করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত জিকিরগুলো খুব সহজেই দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা যায়। চলতে-ফিরতে, কর্মস্থলে কিংবা যাতায়াতের সময়ও। এতে একদিকে যেমন সওয়াব অর্জন হয়, অন্যদিকে আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং আধ্যাত্মিক সংযোগ দৃঢ় হয়।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, শুধু মুখে উচ্চারণ নয়, বরং আল্লাহর মহিমা অন্তরে লালন করে জিকির করলে তা আল্লাহর কাছে দ্রুত কবুল হয়।
নিয়মিত জিকিরের অভ্যাস গড়ে তুললে গুনাহ মাফের পাশাপাশি মুমিনের জীবন হয়ে ওঠে শান্তিময় ও আলোকিত।