images

ইসলাম

কোরবানির পশু নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর দ্বিমত, কী করবেন?

ধর্ম ডেস্ক

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলে পশুর হাটে যেমন ভিড় বাড়ে, তেমনি অনেক পরিবারে দেখা দেয় একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মতবিরোধ। স্বামী হয়তো সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের একটি হৃষ্টপুষ্ট গরু কিনতে চান, যা কোরবানির ত্যাগ ও সৌন্দর্যকে প্রকাশ করবে। অন্যদিকে স্ত্রী সংসারের ভবিষ্যৎ ব্যয় ও বাজেট বিবেচনায় সীমিত ব্যয়ে কোরবানি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন।

এই বাস্তব পরিস্থিতি অনেক সময় পারিবারিক উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামি শরিয়াহ ও পারিবারিক নীতির আলোকে এই সমস্যার সমাধান কী- তা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

সামর্থ্য ও মিতব্যয়িতার ভারসাম্য

ইসলাম আতিশয্য (ইসরাফ) ও কৃপণতা উভয়কেই নিরুৎসাহিত করেছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ: ৩৭)
সামর্থ্য কম থাকা সত্ত্বেও কেবল লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ব্যয় করা বা ‘রিয়া’ (লোক দেখানোর প্রবণতা) তৈরি হওয়া অনুচিত। আবার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অতি কৃপণতা করে নিম্নমানের পশু কেনাও ইবাদতের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সমাধান হিসেবে ইসলাম মধ্যমপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ।

আরও পড়ুন: ঋণ থাকলে কোরবানির বিধান কী

সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ও মর্যাদা

ফিকহ অনুযায়ী, যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার সাধারণত তারই। স্বামী যদি সাহেবে নিসাব (নির্ধারিত সম্পদের মালিক) হন, তবে পশু নির্বাচনে তার সিদ্ধান্ত অগ্রাধিকার পাবে। তবে যার সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাক, মনে রাখা উচিত দাম্পত্য জীবনে কেবল অধিকার নয়, পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্য ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

qurbani-husband-wife-bargaining

পারিবারিক পরামর্শ বা ‘শুরা’

  • ইসলাম পারিবারিক সিদ্ধান্তে পরামর্শকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নন, বরং সহযোগী।
  • স্বামীকে স্ত্রীর তুলে ধরা অর্থনৈতিক বাস্তবতা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
  • স্ত্রীকেও স্বামীর ইবাদতের নিয়ত ও সামর্থ্যের মধ্যে ভালো পশু কেনার আগ্রহকে সম্মান করতে হবে।

আরও পড়ুন: যৌথ পরিবারে কোরবানি, যে ভুল অনেকের হয়

বড় পশুর চেয়ে বড় নিয়ত জরুরি

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো ত্যাগ, মনের অহংকার বিসর্জন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। পশুর আকার বা দাম নিয়ে যদি পরিবারে তিক্ততা বা বিতর্কের সৃষ্টি হয়, তবে তা ইবাদতের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যকে ক্ষুণ্ণ করে।

দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ৩টি মানদণ্ড

১. আমাদের উদ্দেশ্য কি ইবাদত নাকি সামাজিক প্রদর্শন?
২. পশুটি কিনতে গিয়ে কি সুদি ঋণ বা আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে?
৩. এই কোরবানির মাধ্যমে গরিব-অসহায়দের উপকার কতটুকু হবে?

মোটকথা, কোরবানির পশু নির্বাচন কোনো সামাজিক প্রতিযোগিতা নয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ হলে জেদ নয়, বরং শরিয়াহ ও বাস্তবতা বিবেচনায় সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উত্তম। মনের অহংকার ও বিরোধ দূর করতে পারলেই কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়িত হয়। সেই কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

সূত্র: সুরা হজ; রদ্দুল মুহতার; ফতোয়ায়ে আলমগিরি