ধর্ম ডেস্ক
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
হজ ইসলামের অন্যতম একটি রুকন বা স্তম্ভ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে বার্ধক্য বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে অনেক সামর্থ্যবান মুমিন এই ফরজটি নিজে পালন করতে পারেন না। ইসলামে তাদের জন্য ‘বদলি হজ’-এর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বদলি হজ হলো- একজনের ওপর অর্পিত হজের জিম্মাদারি অন্য একজন কর্তৃক পালন করা।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন- ‘সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)
নবীজি (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি যথাযথভাবে হজ পালন করে, সে মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়া দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।’ (সূত্র: সহিহ বুখারি: ১৫২১)
হজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যারা স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার কারণে নিজে যেতে পারছেন না, কেবল তারাই অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করাতে পারবেন। অক্ষমতার কারণগুলো হলো-
আরও পড়ুন: হজের সফরে মারা গেলে তার বদলি হজের বিধান কী
বদলি হজ পালনকারীর জন্য কিছু বিশেষ শর্ত ও যোগ্যতা থাকা আবশ্যক-
১. নিয়ত করা: ইহরাম বাঁধার সময় যার পক্ষ থেকে হজ করা হচ্ছে, তার নাম উল্লেখ করে মনে মনে বা মুখে নিয়ত করতে হবে।
২. মিকাত: প্রতিনিধিকে মূল ব্যক্তির দেশের মিকাত (সীমানা) থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে। তবে প্রতিনিধি যদি সৌদিতে অবস্থান করেন, তবে তিনি সেখান থেকেই নিয়ত করবেন।
৩. ব্যয়ভার: হজের যাবতীয় খরচ মূল ব্যক্তির (যার পক্ষ থেকে হজ হচ্ছে) সম্পদ থেকে বহন করতে হবে।
৪. পারিশ্রমিক নয়: বদলি হজ কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি নয়। একে উপার্জনের মাধ্যম বানানো জায়েজ নেই। প্রতিনিধি শুধু হজের প্রয়োজনীয় খরচ (যাতায়াত, থাকা-খাওয়া) গ্রহণ করবেন।
৫. উদ্বৃত্ত টাকা: হজের প্রয়োজনীয় খরচের পর টাকা বেঁচে গেলে তা মূল ব্যক্তিকে ফেরত দিতে হবে, যদি না তিনি তা প্রতিনিধিকে উপহার হিসেবে দিয়ে দেন।
আরও পড়ুন: হজের ওসিয়ত না করে মারা গেলে জীবিতদের করণীয় কী
ওমরার বদলি: হজের মতো ওমরাও বদলি করা জায়েজ। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, বৃদ্ধ বা অসুস্থ বাবার পক্ষ থেকে ওমরা করা যাবে। (তিরমিজি: ৯৩০)
অসিয়ত না করলে করণীয়: কেউ হজ না করে মারা গেলে এবং অসিয়ত না করলেও ওয়ারিসরা সওয়াবের উদ্দেশ্যে বদলি হজ করাতে পারেন। এতে মৃত ব্যক্তি দায়মুক্ত হবেন বলে আশা করা যায়।
কাবা দেখলে হজ ফরজ হয় না: গরিব ব্যক্তি প্রতিনিধি হয়ে বদলি হজ করতে গেলে কাবা শরিফ দেখার কারণে তার ওপর নতুন করে হজ ফরজ হয় না। কারণ, তাঁর পুনরায় নিজ খরচে যাওয়ার সামর্থ্য নেই।
বদলি হজ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এক বিশেষ রহমত ও সুযোগ। তবে এটি একটি বড় আমানত। তাই সঠিক ও বিশ্বস্ত প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে হজের আরকান ও আহকামগুলো যথাযথভাবে পালন করা হলে প্রেরক ও প্রতিনিধি- উভয়ই ইনশাআল্লাহ পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন।
সূত্র: সুরা আলে: ৯৭; সহিহ বুখারি: ১৫১৩, ১৫২১ ও ১৮৫২; সহিহ মুসলিম: ১৩৩৫; জামে তিরমিজি: ৯৩০ রদ্দুল মুহতার; ফতোয়ায়ে আলমগিরি