ধর্ম ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিটি মানুষেরই কিছু না কিছু গোপন ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে আমরা অন্যের ব্যক্তিগত দোষ চর্চা করতে আনন্দ পাই। অথচ ইসলামে অন্যের দোষ অনুসন্ধান করা (ছিদ্রান্বেষণ) এবং তা প্রচার করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যের ইজ্জত রক্ষা করা একটি বড় ইবাদত। অন্যের দোষ গোপন রাখার ৬টি বিশেষ ফজিলত নিচে তুলে ধরা হলো-
একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর হতে পারে না। আমরা প্রতিনিয়ত এমন অনেক গুনাহ করি, যা কেউ জানে না। যদি কেয়ামতের দিন আল্লাহ আমাদের এসব গুনাহ সবার সামনে প্রকাশ করে দেন, তবে আমাদের অপমানের শেষ থাকবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (মুসলিম: ৬৪৮৯)
আমরা যখন অন্যের ইজ্জত রক্ষা করি, আল্লাহ তখন আমাদের ইজ্জতের জিম্মাদার হয়ে যান। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের গোপন বিষয় গোপন রাখে, আল্লাহ তার গোপন বিষয়ও গোপন রাখেন। অন্যথায় আল্লাহ তাকে তার ঘরের ভেতরেও অপমানিত করতে পারেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৫৪৬)
আরও পড়ুন: মানুষকে যেভাবে ভালোবাসতে বলে ইসলাম
যে ব্যক্তি অন্যের দোষ গোপন রাখে এবং কারো পেছনে মন্দ চর্চা করে না, সমাজে তার প্রতি মানুষের আস্থা ও সম্মান বেড়ে যায়। মানুষ তাকে একজন নির্ভরযোগ্য এবং আমানতদার ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে। অন্যের সম্মান রক্ষা করলে আল্লাহ মানুষের হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে দেন।
অন্যের প্রতি দয়া দেখালে আল্লাহর পক্ষ থেকেও দয়া ও ক্ষমা পাওয়া নিশ্চিত হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন।’ অন্যের দোষ গোপন রাখা এক ধরণের মানসিক মহানুভবতা ও দয়া। এই আমলটি নিজের গুনাহ মাফের শক্তিশালী উসিলা হতে পারে।
কারো দোষ অন্যের কাছে প্রকাশ করা মানেই হলো ‘গিবত’, যা মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো জঘন্য অপরাধ। অন্যের দোষ গোপন রাখার মানসিকতা থাকলে মানুষ অবান্তর কথা বা পরনিন্দা থেকে বেঁচে থাকে। ফলে তার আমলনামা গিবতের মতো মারাত্মক কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র থাকে।
আরও পড়ুন: কাউকে পরনিন্দা করতে দেখলে যা করবেন
আল্লাহ তাআলার একটি গুণবাচক নাম হলো ‘আস-সাত্তার’ বা অতি গোপনকারী। তিনি বান্দার হাজারো পাপ প্রতিনিয়ত ঢেকে রাখেন। যখন কোনো মানুষ অন্যের ভুল ঢেকে রাখে, তখন সে মূলত আল্লাহর এই মহান গুণে গুণান্বিত হয় এবং আল্লাহর বিশেষ রহমতের ছায়ায় স্থান পায়।
অন্যের দোষ গোপন রাখার অর্থ এই নয় যে, আপনি কোনো প্রকাশ্য অপরাধীকে প্রশ্রয় দেবেন। যদি কারো দোষের কারণে সমাজ বা অন্যকারো বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (যেমন চুরি, ডাকাতি, জালিয়াতি বা রাষ্ট্রদ্রোহিতা), তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বা ভুক্তভোগীকে জানানোই ইসলামের বিধান। কেবল ব্যক্তিগত ভুল বা গোপন পাপের ক্ষেত্রেই তা ঢেকে রাখা সুন্নাহ।
অন্যের দোষ খোঁজার পরিবর্তে নিজের সংশোধনে মনোযোগী হওয়া একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আসুন, আমরা অন্যের সম্মান রক্ষা করতে শিখি, যাতে আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের সম্মান ও মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।