ধর্ম ডেস্ক
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
ঈমান, নামাজ, জাকাত ও রোজার পর ইসলামের পঞ্চম রুকন হলো হজ। এটি এমন একটি ইবাদত, যা শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জীবনে একবারই সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর হজ ফরজ হয়। তবে এই ফরজ বিধান নির্ধারণের পেছনে রয়েছে এক অনন্য ঘটনা, যা ইসলামের সহজতা, প্রজ্ঞা ও রহমতের দিককে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
একবার রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বললেন- ‘হে মানবসকল! আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ আদায় করো।’ এ কথা শুনে এক সাহাবি প্রশ্ন করলেন- ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! প্রতিবছর কি হজ করতে হবে?’ তিনি এ প্রশ্নটি তিনবার করলেন। রাসুলুল্লাহ (স.) তখন নীরব থাকলেন। এরপর তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণভাবে উত্তর দিলেন- ‘আমি যদি ‘হ্যাঁ’ বলতাম, তবে তা (প্রতিবছর হজ) ফরজ হয়ে যেত, আর তোমাদের পক্ষে তা পালন করা সম্ভব হতো না।’ (সহিহ মুসলিম: ১৩৩৭; মুসনাদে আহমদ: ১০৬০৭; সহিহ ইবনে হিববান: ৩৭০৪)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, হজ জীবনে মাত্র একবারই ফরজ। এর অতিরিক্ত যা আদায় করা হয়, তা নফল হিসেবে গণ্য হয়। (সুনানে আবু দাউদ: ১৭২১)
আরও পড়ুন: মকবুল হজের জন্য যেসব শর্ত ও মাসয়ালা জানা জরুরি
হজ একবার ফরজ হলেও সামর্থ্য অর্জনের পর তা বিলম্ব করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত। কারণ সময়ের অনিশ্চয়তা, অসুস্থতা বা অন্য প্রতিবন্ধকতা যেকোনো সময় এসে যেতে পারে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি হজ করার ইচ্ছা করে, সে যেন তাড়াতাড়ি তা আদায় করে নেয়। কারণ সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা বাহনের ব্যবস্থা নাও থাকতে পারে।’ (মুসনাদে আহমদ: ১৮৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ)
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ করা ফরজ। আর কেউ যদি অস্বীকার করে, তবে জেনে রাখো আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করার বিষয়ে হজরত ওমর (রা.) বলেন- ‘যে ব্যক্তি হজ করার সামর্থ্য রাখে, তবুও হজ করে না- সে ইহুদি বা খ্রিষ্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করল কি না, আল্লাহ তার পরোয়া করেন না।’ (তাফসির ইবনে কাসির: ১/৫৭৮)
আরও পড়ুন: হজ আদায়ে বিলম্ব করার ক্ষতি
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আমি আমার বান্দাকে সুস্থতা দিলাম, তার রিজিক প্রশস্ত করলাম, তবুও পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সে আমার ঘরে আসেনি, সে হতভাগা ও বঞ্চিত।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৩৬৯৫)
এই বর্ণনা হজের প্রতি অবহেলার ভয়াবহতা ও গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করে।
হজ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও ভালোবাসার প্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সেই ঐতিহাসিক উত্তর- “আমি যদি হ্যাঁ বলতাম…” উম্মতের জন্য আল্লাহর রহমত ও সহজতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অতএব, যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে, তার উচিত বিলম্ব না করে দ্রুত তা আদায় করা। কারণ জীবন অনিশ্চিত, আর ফরজ হজ বাকি রেখে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হওয়া এক চরম ক্ষতির বিষয় হতে পারে।